আ.লীগ-বিএনপির প্রতীকে ভেজাল রয়েছে: ফয়জুল করীম

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রতীকে ভেজাল ও প্রতারণা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহম্মাদ ফয়জুল করীম। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে ইসলামী যুব আন্দোলন জেলার শাখা।
মুফতি ফয়জুল করীম বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে মৌলিক কোনো পার্থক্য নেই। তারা আসলে একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। তারেক রহমান, সজীব ওয়াজেদ জয় ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য সমালোচনা করে তিনি বলেন, দুই দলের নেতাদের অবস্থান প্রায় একই। বিএনপি এখন আওয়ামী লীগের বাকশালের পথেই হাঁটছে।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নির্বাচনী প্রতীকগুলোর ভেতরেই রয়েছে ধোঁকাবাজি। নৌকা প্রতীকের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “যাদের প্রতীক নৌকা, তারা নিজেরাই নৌকা চালাতে জানে না। ধানের শীষ নিয়ে যারা ভোট করে তারা ধান কাটতে পারে না। লাঙ্গলধারীরা লাঙ্গল চালায় না, কুঠারধারীরা লাকড়ি কাটতে পারে না, গরুর গাড়ি প্রতীকেরা গরুর গাড়িও চালাতে জানে না। এসব প্রতীক গরিবদের হলেও যারা নির্বাচন করে তারা কেউ গরিব নয়। প্রতীকের মধ্যেই প্রতারণা লুকিয়ে আছে।”
সাম্প্রতিক সময়ে দুই দলের কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মাদক ব্যবসায় জড়িত ছিল, বিএনপিও এখন একই কাজে লিপ্ত। পার্থক্য শুধু ক্ষমতার হাতবদলে। তার ভাষায়, “চাঁদা বদল হয়নি, শুধু হাত বদল হয়েছে। আওয়ামী লীগ যেমন মদ ও মাদকে জড়িত হয়ে ধরা পড়েছে, বিএনপিও তেমনি ইয়াবা ও গাঁজা নিয়ে ধরা পড়ছে। তবে বর্তমানে বিএনপি নিজেদের ভেতরেই খুনাখুনিতে লিপ্ত, আমার জানা মতে তাদের অভ্যন্তরীণ খুনের সংখ্যা দুই শতাধিক।”
নিজ দলের প্রতীক হাত পাখার প্রশংসা করে তিনি বলেন, হাত পাখা এমন একটি প্রতীক যা সবার কাজে লাগে। ছোট-বড়, নারী-পুরুষ, ধনী-গরিব—সবাই হাত পাখা ব্যবহার করতে পারে। এটি সার্বজনীন প্রতীক।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ইসলামী যুব আন্দোলনের সভাপতি মুহাম্মাদ জুবায়ের হোসাইন। প্রধান বক্তা ছিলেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল মুফতি মানসুর আহমাদ সাকী। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি মুহাম্মাদ দ্বীন ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী মুফতি ইসমাঈল সিরাজী আলমাদানী এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের প্রার্থী মুফতি মাসুম বিল্লাহ প্রমুখ।