সংস্কার ও বিচার নয়, নির্বাচন বন্ধের চেষ্টায় লাভবান হবেন হাসিনা

গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান প্রশ্ন তুলেছেন, ‘সংস্কার ও বিচার না করে কেন সবচেয়ে প্রভাবশালী ছাত্র উপদেষ্টা পদত্যাগ করে দল গঠন করলেন?’ তার মতে, নিত্যনতুন দাবি তুলে নির্বাচন আটকে দিলে দেশের জন্য নয়, বরং শেখ হাসিনার জন্যই লাভজনক হবে।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাত ১২টা ১০ মিনিটে নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রাশেদ খান লিখেছেন, এতদিন প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন সবার প্রিয় মুখ, কিন্তু এখন তাকে ‘গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার বিরোধী শক্তি’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। অথচ তাদের কারণে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনাও একসময় করা যেত না। এখন তার বিরুদ্ধেই নগ্ন ভাষায় সমালোচনা চলছে।
তিনি বলেন, ‘সংস্কার ও বিচারের অজুহাত দিয়ে নির্বাচন আটকে রাখতে চাইছে কিছু পক্ষ। অথচ চেয়ারে থাকলে যেসব সংস্কার সম্ভব ছিল, সেসব না করে পদত্যাগ করে নতুন দল গঠন করলে কীভাবে তা বাস্তবায়ন হবে?’
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘সরকার দুর্বল হয়েছে যেদিন থেকে পদত্যাগ শুরু হয়েছে। সামনে যদি আরও উপদেষ্টা পদত্যাগ করে নির্বাচনে বা রাজনীতিতে অংশ নেন, তাহলে সরকার আরও দুর্বল হয়ে পড়বে।’
রাশেদ খান সংবিধান প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘নতুন সংবিধান চান, কিন্তু মুজিববাদী সংবিধান মেনে হাসিনার রাষ্ট্রপতির হাতে শপথ নিয়েছিলেন, তখন কি মনে ছিল না? সংবিধানকে স্বীকৃতি দিয়ে শপথ নিয়ে আবার তাকে অবৈধ বলা যায় কীভাবে?’
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘যদি নিত্যনতুন দাবি তুলে নির্বাচন আটকে ১/১১-এর মতো পরিস্থিতি তৈরি করা হয়, তবে এর সুফল ভোগ করবেন হাসিনা। তখন আমি, আপনি, আমরা কেউই নিরাপদ থাকব না। তাই একগুঁয়েমি না দেখিয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংস্কার ও বিচারের প্রক্রিয়া বের করে নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।’
বিএনপি ও অন্যান্য দলের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি আরও প্রশ্ন রাখেন, ‘আপনারা যদি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অধীনে নির্বাচনে না যান, তবে হাসিনা ফিরে আসার পর আরেকটি ফখরুদ্দিন-মঈনুদ্দিনের অধীনে নির্বাচনে যেতে চান? নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত রোডম্যাপকে স্বাগত জানাতে পারছেন না কেন? এ নির্দেশনাই তো ড. ইউনূস দিয়েছেন।’