‘ভারতে পরমাণু হামলা চালাও, ট্রাম্পকে হত্যা করো’ লেখা বন্দুক দিয়ে স্কুলে হামলা

যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপলিস শহরে একটি ক্যাথলিক স্কুলের গির্জায় ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৭ আগস্ট) সকালের প্রার্থনার সময় এক বন্দুকধারীর গুলিতে দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। তবে হামলাকারীর ব্যবহৃত অস্ত্রের লেখা বিষয়টি পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে হামলাকারীর বন্দুকে লেখা ছিল ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যা করো’ এবং ‘ভারতে পরমাণু হামলা চালাও’।
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, হামলাকারীর ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত ভিডিওতে এসব লেখা দেখা গেছে। পরে ভিডিওটি মুছে ফেলা হয়। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলাকারীর নাম রবিন ওয়েস্টম্যান (২৩)। সে হামলায় তিন ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করেছে রাইফেল, শটগান ও পিস্তল এবং গির্জার ভেতরে একটানা বহু রাউন্ড গুলি চালিয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার কিছুক্ষণ পর স্কুল প্রাঙ্গণের পার্কিং লট থেকে ওয়েস্টম্যানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, সে আত্মহত্যা করেছে।
ওয়েস্টম্যানের ইউটিউব চ্যানেল থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার আগে অন্তত দুটি ভিডিও পোস্ট করা হয়েছিল। এর একটি ভিডিও প্রায় ১০ মিনিট দীর্ঘ, যেখানে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও লোড করা ম্যাগাজিন প্রদর্শন করা হয়। ম্যাগাজিনগুলোর গায়ে লেখা ছিল ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যা করো’, ‘এখনই ট্রাম্পকে হত্যা করো’, ‘ইসরায়েলের পতন ঘটাতে হবে’, ‘ইসরায়েলকে পুড়িয়ে দাও’, এবং একটি অস্ত্রের গায়ে লেখা ছিল ‘নিউক ইন্ডিয়া’, অর্থাৎ ভারতে পরমাণু হামলা চালাও।
দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে স্থানীয় সম্প্রদায়ে শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলার পেছনের আদর্শিক প্রভাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওয়েস্টম্যানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইউটিউব কার্যক্রম ও মানসিক স্বাস্থ্য ইতিহাস বিষয়ক তদন্ত শুরু হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে স্কুল ও ধর্মীয় স্থানে বন্দুক হামলার ঘটনা প্রায়ই ঘটে, তবে এই ঘটনার অস্ত্রে লেখা বার্তাগুলো বিষয়টিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। এখন তদন্তকারীরা খুঁজছেন ওয়েস্টম্যান কি এককভাবে এই হামলা চালিয়েছে, নাকি কোনো চরমপন্থি গোষ্ঠীর প্রভাবে।