বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা ভারত আসছে ব্যক্তিগত স্বার্থে: তৃণমূল বিধায়ক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী দাবি করেছেন, বাংলাদেশের হিন্দুরা ধর্মীয় কারণে নয়, ব্যক্তিগত স্বার্থে ভারত অভিমুখে আসছেন। তার মতে, সংখ্যালঘুদের ওপর মুসলিমদের নির্যাতনের অভিযোগ ভিত্তিহীন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ‘বাংলাদেশে মুসলমানদের জন্য হিন্দুরা পালিয়ে আসছেন, এটা সত্য নয়।’
বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে সংবাদমাধ্যম আজতক বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মনোরঞ্জন ব্যাপারী আরও বলেন, ‘ধর্মীয় কারণে হিন্দুরা বাংলাদেশ ছাড়ছেন, এ ধরনের দাবি দেখাতে পারবেন না। কাউকেই দেখাতে পারবেন না। সত্যি কথা বলতে, বাংলাদেশে শুধু হিন্দু নয়, মুসলিমরাও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে হিন্দুরা বেশি সম্পৃক্ত থাকায় তাদের ক্ষয়ক্ষতি তুলনামূলক বেশি। এটা ধর্মের কারণে নয়, রাজনৈতিক কারণে হয়েছে। হিন্দুরা হিন্দু বলেই নির্যাতিত হচ্ছেন এই ধরনের প্রচারণা বাজার গরম করার জন্যই ছড়ানো হচ্ছে ‘
তিনি আরও মন্তব্য করেন, ‘যদি একাত্তর থেকে ধরি, বাহাত্তর বা তিয়াত্তর পর্যন্তও মানুষ বাংলাদেশে থেকে গেছেন। স্বাধীনতার পর এত বছর তারা সেখানে বাস করতে পেরেছেন, মুসলমানদের হাতে কোনো ক্ষতি হয়নি। তাহলে এখন কেন হঠাৎ করে দাবি উঠছে, তারা নিপীড়নের শিকার? এত বছর পর কেন তারা টিকতে পারছেন না? এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা জরুরি।’
বিধায়ক বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত পেরিয়ে যারা এসেছেন, তাদের বেশিরভাগের পরিচয় প্রমাণসাপেক্ষ। রেশন কার্ড, ভোটার কার্ড, আধার কার্ডসহ নানা নথি তাদের কাছে রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ‘মতুয়ারা নাগরিকত্ব দাবি তুলেছেন রাজনৈতিকভাবে। তার আগে কেউ বলেনি তারা ভারতীয় নন। নাগরিকত্ব প্রশ্নটা নিজেরাই সামনে এনেছেন।’
খুদিরাবাদ অঞ্চলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, ২০০০ সালের পর থেকে সেখানে নতুন করে অন্তত ৬০ থেকে ৭০টি গ্রাম গড়ে উঠেছে, যার অর্ধেকের বাসিন্দা বাংলাদেশ থেকে আসা। তিনি দাবি করেন, ‘অনেকেই নানা কারণে সীমান্ত পেরিয়ে এসেছে। কেউ জমি নিয়ে প্রতারণা করে, কেউ পরকীয়া বা অপরাধে জড়িয়ে পালিয়ে, কেউ পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে। আবার নিম্নবর্ণের কেউ এখানে এসে উচ্চবর্ণের পরিচয়ে বসবাস শুরু করেছে। মূলত এ ধরনের স্বার্থপরতার কারণেই তারা এসেছে, ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে নয়।’