ইবিতে সাজিদের খুনীদের বিচারের দাবিতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহর খুনীদের দ্রুত গ্রেফতার ও আওয়ামী লীগের দোসরদের বিচারের দাবিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ইবি শাখার উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৭ আগস্ট) দুপুর দেড়টা নাগাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ ভবনের থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রশাসন ভবনের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে সংগঠনটি। এসময় শাখা ছাত্রদলের আহবায়ক সাহেদ আহম্মেদ ও সদস্য সচিব মাসুদ রুমী মিথুনের নেতৃত্বে উপস্থিত ছিলেন ইবি ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রাশেদসহ বর্তমান কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা ওকর্মীরা।
এসময় সমাবেশে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ বলেন, কুষ্টিয়ার এসপি ও ইবি থানার ওসির সাথে তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে কথা বলেছি। তারা বলেছে যে কাজের দ্রুততার সাথে চলছে। আমি তাদের বলতে চাই, আপনাদের প্রতি আমাদের আস্থা আছে। ছাত্রদলের আস্থা আছে। আপনারা যতদ্রুত সাজিদের হত্যাকারীদের গ্রেফতার করুন। ক্যাম্পাসে ১৮ হাজার শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী আছে আমরা সবাই অনিরাপদবোধ করছি।
তিনি বলেন, আমি সর্বোপরি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট দাবি জানাচ্ছি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস যাতে নিরাপদ ক্যম্পাস হয়। এর জন্য কি করনীয় সেটা আপনাদের ঠিক করতে হবে। সিকিউরিটি গার্ড,পুলিশের টহল বাড়াতে হবে এবং সকল জায়গায় সিসি ক্যামেরা ও লাইট বৃদ্ধি করতে হবে। সর্বোপরি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যতোদ্রুত সম্ভব কার্যকারী পদক্ষেপে নিতে হবে। পাঁচ আগস্টের আগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের যে সকল শিক্ষকরা আমাদের বিপক্ষে ছিলো এবং আমাদেরকে জঙ্গি আখ্যা দিয়ে পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করিয়েছিলো আমরা চাই তাদের বিচার হোক।
ইবি ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সদস্য রাশেদুল ইসলাম রাশেদ বলেন, যারা আওয়ামী শাসন আমলে দীর্ঘ ১৭ বছর এই ক্যাম্পাসে রাজত্ব করেছিল তাদের এখনও সনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনা হয়নি। আপনারা ১৯ জন শিক্ষককে শোকজ করে নোটিশ দিয়েছেন কিন্তু এই ক্যাম্পাসে তাদের মত আরো অনেকে আছে। ছাত্রলীগ যখন হামলা-মামলা করেছে তারা ছাত্রলীগের পৃষ্ঠপোষকতা করেছে। আমরা ছাত্রদলের নেতারা পরীক্ষা দিতে আসলে সেই শিক্ষকরা সহযোগিতা না করে ছাত্রলীগ ডেকে আমাদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হতো। কিন্তু তারা এখনও এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রয়ে গেছে।
এসময় তিনি অনতিবিলম্বে তাদেরকে চাকরি থেকে বহিষ্কার করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানান।
প্রসঙ্গত, গত ৩ আগস্ট সন্ধ্যায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হাতে পাওয়া ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, সাজিদ আব্দুল্লাহর মৃত্যু শ্বাসরোধজনিত শ্বাসকষ্টে (asphyxia) হয়েছে, যা মৃত্যুর আগে এবং এটি হত্যাজনিত (homicidal)। গত ১৭ জুলাই বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হলসংলগ্ন পুকুরে তার মরদেহ ভেসে থাকতে দেখা যায় এবং বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও পুলিশের উপস্থিতিতে তা উদ্ধার করা হয়। মৃত্যুর কারণ নিয়ে সন্দেহ ও আন্দোলনের মুখে তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও শিক্ষার্থীরা তদন্তের অগ্রগতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করে। সাজিদ আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে