শুক্রবার, ২৯ আগস্ট ২০২৫

|১৩ ভাদ্র ১৪৩২

সদ্য সংবাদ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩:৫২, ২৮ আগস্ট ২০২৫

টানা চারদিনে ৪৬ বাংলাদেশিকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি

টানা চারদিনে ৪৬ বাংলাদেশিকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি
ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন জান্তা বাহিনীর সঙ্গে টানা ১১ মাস সংঘাতের পর গত বছরের আগস্টে রাখাইনের সীমান্তবর্তী মংডু শহর নিয়ন্ত্রণে নেয় আরাকান আর্মি। এরপর থেকেই কক্সবাজারের টেকনাফ এলাকায় জেলেদের জন্য আতঙ্কজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নাফ নদ ও সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে বারবার বাংলাদেশি জেলেরা আরাকান আর্মির অপহরণের শিকার হচ্ছেন।

মাত্র ৯ দিনের ব্যবধানে ৫১ বাংলাদেশি জেলেকে  অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে মিয়ানমারে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি। এর মধ্যে চারদিনের মধ্যে ৪৬ জন জেলে অপহৃত হন। ১৭ আগস্ট থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত এ ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ ২৬ আগস্ট নাফ নদের মোহনা থেকে দুটি মাছ ধরার ট্রলারসহ ১৩ জেলেকে ধরে নেয় আরাকান আর্মি। এখনও কেউ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় জেলেরা জানান, আরাকান আর্মি শাহপরীর দ্বীপের কাছে নাফ নদের নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকায় স্পিডবোটে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ধাওয়া করছে। গত ২৬ আগস্ট একটি ট্রলারডুবির ঘটনায় ছয় জেলেকে কোস্টগার্ড জীবিত উদ্ধার করে। এছাড়া মিয়ানমারের অংশে ঢুকে মাছ শিকারে যাওয়া জেলেদের যে কোনো সময় ধরে নিয়ে যাচ্ছে বিদ্রোহী বাহিনী। মাঝে মাঝে অপহৃত জেলেদের ফেরত দিলেও মাছ ও জাল লুট করা হচ্ছে।

ট্রলার মালিকরা জানান, নাফ নদে মিয়ানমারের অংশে আরাকান আর্মি একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করছে, যার কারণে জেলেদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে। এতে আতঙ্ক আরও বাড়ছে, জেলে পরিবারগুলো খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছে।

কোস্টগার্ড পূর্ব জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট বিএন শাকিব মেহবুব বলেন, বারবার সতর্ক করলেও জেলেরা জলসীমা অতিক্রম করছে, এ কারণেই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। ইতোমধ্যে টহল জোরদার করা হয়েছে এবং জেলেদের সতর্ক করা হচ্ছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন জানান, নদীর নাব্যতার কারণে ভাটার সময় জেলেদের নাইক্ষ্যংদিয়া হয়ে আসতে গিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করতে হয়। এই সুযোগে তাদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে আরাকান আর্মি। অপহৃতদের দ্রুত ফেরত আনার জন্য বিজিবি ও কোস্টগার্ড যৌথভাবে কাজ করছে। পাশাপাশি নদীতে টহল ও নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।