শুক্রবার, ২৯ আগস্ট ২০২৫

|১৩ ভাদ্র ১৪৩২

সদ্য সংবাদ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭:৫৫, ২৫ আগস্ট ২০২৫

আপডেট: ১৭:৫৮, ২৫ আগস্ট ২০২৫

সীমান্তে অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় লাখো রোহিঙ্গা, ৩৩ জেলে অপহরণ

সীমান্তে অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় লাখো রোহিঙ্গা, ৩৩ জেলে অপহরণ
ছবি: সংগৃহীত

রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা গণহত্যার অষ্টম বার্ষিকী পালিত হওয়ার সময় এবং বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা চলাকালীন, কক্সবাজার সীমান্তে আবারও নতুন অনুপ্রবেশের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সীমান্ত এলাকায় হাজার হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে টেকনাফের নাফ নদীসংলগ্ন এলাকায় গত তিন দিনে অন্তত ৩৩ জন জেলেকে অপহরণ করেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মি। সর্বশেষ সোমবার (২৫ আগস্ট) সাতজন জেলেকে একটি নৌকাসহ ধরে নিয়ে যায় গোষ্ঠীটি। তবে এখনো কাউকেই মুক্ত করা হয়নি।

স্থানীয় সূত্রের তথ্যমতে, নো-ম্যানস ল্যান্ডে বর্তমানে অন্তত এক লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। তাদের অনেকে ছোট ছোট দলে সীমান্ত অতিক্রম করে কক্সবাজারের বিভিন্ন শরণার্থীশিবিরে ঢুকে যাচ্ছে। যদিও রাখাইনে সেনা ও আরাকান আর্মির সংঘাত অব্যাহত রয়েছে, সীমান্ত এলাকায় গত দু’দিন গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়নি। এর আগে শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত গোলার শব্দে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল সীমান্তের বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের ধারণা, সীমান্তে জড়ো হওয়া রোহিঙ্গাদের সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার থেকে এক লাখ হতে পারে। তারা ধীরে ধীরে ছোট দলে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। টেকনাফের ইউএনও মো. এহেছান উদ্দিন বলেন, বড় আকারে অনুপ্রবেশের খবর না থাকলেও ছোট ছোট দলে রোহিঙ্গারা ঢুকছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ ব্যাপারে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

বিজিবি টেকনাফ-২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান জানান, সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে প্রায় দুই লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকেছে। বর্তমানে আরও অন্তত এক লাখ সীমান্তে অপেক্ষায় আছে।

শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের হিসাব বলছে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ অন্তত অর্ধলাখ রোহিঙ্গা দেশে প্রবেশ করতে পারে। কমিশনার ড. মিজানুর রহমান বলেন, সীমান্তে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। প্রতিনিয়ত মাদক, অস্ত্র ও নানা অপরাধমূলক কার্যক্রম বেড়ে চলেছে। সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ তৎপর থাকলেও চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

২০১৭ সালে রাখাইনে সেনা ও মগ সম্প্রদায়ের নির্যাতনের মুখে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এবারও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাদের মতে, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া কার্যকর না হলে নতুন করে রোহিঙ্গা ঢল নামা সময়ের ব্যাপার মাত্র।

সূত্র: আমারদেশ