ডিএসসিসির উদ্যোগে জুলাই শহীদদের নামে চত্বর ও সড়ক উদ্বোধন

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের নামে নামকরণকৃত একটি চত্বর ও একটি সড়কের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
সোমবার (৭ জুলাই) ধূপখোলা মাঠ সংলগ্ন শহীদ জুনায়েদ চত্বর এবং দ্বীননাথ সেন সড়ককে শহীদ আনাস সড়ক নামে নামকরণ করা হয়। এ দুটি স্মারক উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা জনাব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা জনাব ফরিদা আখতার।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চীফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. তাজুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী, এবং ডিএসসিসির প্রশাসক মো. শাহজাহান মিয়া।
স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা বলেন, ‘শহীদদের শুধু স্মরণ করলেই হবে না, তাদের প্রেরণায় কাঠামোগত পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়তে হবে, যেন নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে আর কোনো সন্তান প্রাণ না হারায়।’
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, ‘আনাস ও জুনায়েদের মতো শিশু-কিশোরেরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পেরেছিলো, কারণ তাদের জন্ম হয়েছিল ন্যায়বোধ নিয়ে।’
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চীফ প্রসিকিউটর জানান, চানখাঁরপুলে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট আগামী ১৪ জুলাই গঠন করা হবে এবং ৫ আগস্ট থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে।
ডিএসসিসির প্রশাসক বলেন, ‘আনাস ও জুনায়েদ শুধু নাম নয়, তারা একটি আদর্শ, একটি আন্দোলনের প্রতীক।’ জুলাই অভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় আদর্শে রূপ দিতে শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
শহীদ আনাসের মা সানজিদা খান বলেন, ‘আমার সন্তানের রক্ত যেন বৃথা না যায়। বৈষম্যহীন, ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনের জন্যই সে জীবন দিয়েছিল। আমাদের একমাত্র দাবি, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন।’
অনুষ্ঠান শেষে শহীদদের স্মরণে দোয়া এবং একটি কৃষ্ণচূড়া গাছ রোপণ করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চাঁনখাঁরপুলে ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন ১৪ বছর বয়সী মেহেদী হাসান জুনায়েদ এবং ১০ম শ্রেণির ছাত্র শাহারিয়ার খান আনাস। জুনায়েদ তাঁর সঞ্চিত টাকা নিয়ে ছাত্রদের পানি খাওয়াতে গিয়েছিলেন, আর আনাস বিদ্রোহে নামার আগে মাকে বিদায় চিঠি লিখে রাস্তায় নেমেছিলেন।