শুক্রবার, ২৯ আগস্ট ২০২৫

|১৩ ভাদ্র ১৪৩২

সদ্য সংবাদ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৩০, ২৮ আগস্ট ২০২৫

ইসরায়েলি আগ্রাসনে গাজার দুর্ভিক্ষ আরো প্রকট, অনাহারে মৃত্যু ১০

ইসরায়েলি আগ্রাসনে গাজার দুর্ভিক্ষ আরো প্রকট, অনাহারে মৃত্যু ১০
ছবি: আল জাজিরা

ইসরায়েলি আগ্রাসনের ফলে অবরুদ্ধ গাজার পরিস্থিতি দিনকে দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। শুধু মাত্র বোমা কিংবা গুলি নয়, নিরীহ ফিলিস্তিনিদের মারা হচ্ছে অনাহারে রেখে। দখলদার বাহিনীর অবরোধ ও ধারাবাহিক বোমাবর্ষণের কারণে অবরুদ্ধ এলাকাটিতে জরুরি জীবনরক্ষাকারী সহায়তা পৌঁছাতে না পারায় শিশুরা ক্রমবর্ধমান হারে ক্ষুধায় মারা যাচ্ছে।

জাতিসংঘ ও ত্রাণ সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারা বুধবার সংস্থাটির নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া এক কড়া বক্তব্যে বলেছেন, গাজায় চলমান দুর্ভিক্ষ ও ব্যাপক ক্ষুধা একটি ‘পরিকল্পিত’ ও ‘মানুষ সৃষ্ট’ বিপর্যয়। জাতিসংঘের উপ-মানবিক প্রধান জয়েস মুসুইয়া পরিষদকে জানিয়েছেন, গাজার উত্তর-মধ্য গভর্নরেটে (যেখানে গাজা শহর অবস্থিত) দুর্ভিক্ষ নিশ্চিতভাবে শুরু হয়েছে। এই দুর্ভিক্ষ আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে দক্ষিণে দেইর আল-বালাহ ও খান ইউনুস পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে পাঁচ লাখেরও অধিক মানুষ ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে আছেন। সেপ্টেম্বরের শেষে যে সংখ্যা ৬ লাখ ৪০ হাজার ছাড়িয়ে যাবে। গাজার এমন কোনো মানুষ নেই, যিনি ক্ষুধার অভিঘাত থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। পাঁচ বছরের নিচে কমপক্ষে ১ লাখ ৩২ হাজার শিশু মারাত্মক অপুষ্টির ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪৩ হাজার শিশু  নিকটবর্তী মাসগুলোতে জীবন-সংকটের মুখোমুখি হতে পারে।

মুসুইয়া বলেন, ‘এই দুর্ভিক্ষ কোনো খরা কিংবা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফল নয়। এটি একটি সৃষ্ট বিপর্যয় একটি যুদ্ধের ফল, যা ব্যাপক বেসামরিক মৃত্যু, আহত, ধ্বংস ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি ডেকে এনেছে।’ এর আগে বুধবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত একদিনে ক্ষুধা ও অপুষ্টিতে আরো ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। এতে চলমান যুদ্ধের মধ্যে গাজায় ক্ষুধাজনিত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১৩ জনে, এর মধ্যে শিশু রয়েছে ১১৯ জন।

সর্বশেষ