শুক্রবার, ২৯ আগস্ট ২০২৫

|১৩ ভাদ্র ১৪৩২

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১:০২, ২৮ আগস্ট ২০২৫

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন হতে পারে ১২ ফেব্রুয়ারি, রোডম্যাপ প্রকাশ আজ

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন হতে পারে ১২ ফেব্রুয়ারি, রোডম্যাপ প্রকাশ আজ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চূড়ান্ত রোডম্যাপ অনুমোদন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মঙ্গলবার কমিশনের বৈঠকে এটি পাস হয়। আজ বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়া হবে। রোডম্যাপ অনুযায়ী, ১৮ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। আর ভোট গ্রহণ হতে পারে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। এতে করে তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন আয়োজনে কমিশনের হাতে থাকবে প্রায় ৫৭ দিন। প্রবাসী ভোটারদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে এবার অতিরিক্ত ১০ দিন সময় রাখা হয়েছে।

পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, নির্বাচনী কার্যক্রম ২৪টি বিষয়ে ২০৭ ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপ, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রণয়ন, রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন, সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ, পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের জন্য নীতিমালা তৈরি, নির্বাচনী আইন-বিধির সংস্কার ও একীভূতকরণ, পোস্টার ও পরিচয়পত্র মুদ্রণ, নির্বাচনী সরঞ্জাম সংগ্রহ, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ব্যবহারের প্রস্তুতি, বাজেট চূড়ান্তকরণ, ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ, জনবল নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, আইসিটি সহায়তা, প্রচার ও উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম, ফলাফল প্রকাশের ব্যবস্থা এবং প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ভোটিং।

ইসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে সংলাপ চলবে। ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ২১ ধাপে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা তৈরি করা হবে। ২০০৭ সালের ৩১ অক্টোবর বা তার আগে জন্ম নেওয়া নাগরিকেরা এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবেন।

নির্বাচনী আইন-বিধির সংস্কার প্রক্রিয়া আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তা শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সময়সীমার মধ্যে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন ও আচরণবিধি চূড়ান্ত করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণের কাজ শেষ হবে ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের নীতিমালা চূড়ান্ত হবে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে।

ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ নভেম্বর শেষে শেষ হবে। মাঠ প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ এবং ব্রিফিংয়ের জন্য ৩১ অক্টোবরের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে চিঠি পাঠানো হবে।

আগামী ৫ অক্টোবর খসড়া ভোটকেন্দ্র তালিকা প্রকাশ করা হবে। তফসিল ঘোষণার পর তা যাচাই করে কমিশনে পাঠানো হবে। ভোটগ্রহণের অন্তত ২৫ দিন আগে চূড়ান্ত তালিকার গেজেট প্রকাশ করা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে প্রথম বৈঠক হবে ২৫ সেপ্টেম্বর। তফসিল ঘোষণার আগে অনুষ্ঠিত হবে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা। নির্বাচন সংক্রান্ত সফটওয়্যার ও প্রযুক্তি কার্যক্রম ৩১ অক্টোবরের মধ্যে প্রস্তুত থাকবে।

তফসিল ঘোষণার পর রাজনৈতিক দলের প্রচারণা শুরু হবে। বিটিভি ও বাংলাদেশ বেতার প্রচারে তা সম্প্রচার করা হবে। প্রতীক বরাদ্দের পর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা আসনভিত্তিক রিটার্নিং কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে ইশতেহার পাঠ করবেন ভোটারদের সামনে। প্রবাসী ভোটারদের জন্য ব্যালট পেপার পাঠানো হবে ৫ জানুয়ারির মধ্যে এবং নির্বাচন শুরুর এক সপ্তাহ আগে তা দেশে ফেরত আনা হবে। ৩০ নভেম্বরের মধ্যে তাদের নিবন্ধন সম্পন্ন করা হবে। নির্বাচনের ৩০ দিন আগে প্রতীক বরাদ্দের পরই তারা ভোট দিতে পারবেন। কারাবন্দিদের কাছে ভোটের অন্তত দুই সপ্তাহ আগে পোস্টাল ব্যালট পৌঁছে দেওয়া হবে। নির্বাচনের তিন সপ্তাহ আগে ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।

সর্বশেষ