শুক্রবার, ২৯ আগস্ট ২০২৫

|১৩ ভাদ্র ১৪৩২

সদ্য বিনোদন

প্রকাশিত: ১৫:০৫, ২৬ আগস্ট ২০২৫

বন্ধু রাহির বর্ণনায় ‘ভয়ংকর’ তৌহিদ আফ্রিদি

বন্ধু রাহির বর্ণনায় ‘ভয়ংকর’ তৌহিদ আফ্রিদি
ছবি: সংগৃহীত

কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদির গ্রেপ্তারের পর তার অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে মুখ খুলেছেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সহকর্মী কনটেন্ট ক্রিয়েটর তানভীর রাহী। এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে রাহী আফ্রিদিকে ‘ভয়ংকর’ আখ্যা দিয়ে ইউটিউব ইন্ডাস্ট্রিতে তার প্রভাব, ব্যক্তিজীবন ও আচরণের অজানা দিকগুলো প্রকাশ করেছেন।

সম্প্রতি রাহীর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সেখানে তিনি বলেন, ক্যামেরার সামনে আফ্রিদি একরকম হলেও ব্যক্তিজীবনে তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন একজন মানুষ। ক্যামেরার বাইরে সবাই তাকে ভয় পায়। ইউটিউব ইন্ডাস্ট্রিতে তাকে ‘বাঘ’ হিসেবে দেখে অনেকে।

রাহী আরও জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আফ্রিদির বিরোধিতা অনেকেই করেছিলেন। সে সময় রাহী নিজেও তার রাগের শিকার হয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘রাগ উঠলে সে বেল্ট খুলে আমাদের কুত্তার মতো পেটাতো।’

পুরনো স্মৃতি স্মরণ করে রাহী বলেন, ‘যখন ওর মনে হতো কেউ তার বিরুদ্ধে কাজ করছে, তখন ফোন করতো এবং ক্ষমতা দেখাতো। আন্দোলনের দুই-তিন মাস পর এক রাতে আমাকে ভিডিও কল দেয়। ভয় পেয়ে যাই। ফোন ধরার পর বলে, তোর সঙ্গে একজনের কথা বলাবো সে শিগগিরই দেশের বড় মাপের কেউ হবে। এরপর ভিপি নূরের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেয়। পরে বলে, বুঝছিস আমার অবস্থানটা? সাবধানে থাকিস।’

রাহী যোগ করেন, ৫ আগস্টের পরও দেশে আফ্রিদি সাধারণত স্বাভাবিক ছিল। আমরা চাইতাম সে তার মতো থাকুক, আমরা আমাদের মতো থাকি, কিন্তু তা হয়নি। আফ্রিদির চরিত্র নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, ‘তার মনুষ্যত্ব নেই, শুধু প্রতিশোধের চিন্তা। কারে কারে ধরবেন, কারে কারে মারবেন এই চিন্তাই তার মাথায়। আল্লাহ কখনও এমন মানুষকে ছাড় দেন না।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলায় তৌহিদ আফ্রিদি রোববার (২৪ আগস্ট) রাতে বরিশাল মহানগরের বাংলাবাজার এলাকায় সিআইডির বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার হন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ড দেন আদালত। মামলায় আফ্রিদি ১১ নম্বর আসামি।

মামলার প্রধান আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুই নম্বর আসামি সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং তিন নম্বরে রয়েছেন পুলিশের সাবেক আইজিপি আব্দুল্লাহ আল মামুন। মামলায় ২২ নম্বর আসামি তৌহিদ আফ্রিদির বাবা, মাইটিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সাথীকে গত ১৭ আগস্ট ঢাকা মহানগর পুলিশ গ্রেপ্তার করেন।
 

সম্পর্কিত বিষয়: