শুক্রবার, ২৯ আগস্ট ২০২৫

|১৩ ভাদ্র ১৪৩২

সদ্য সংবাদ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৩৮, ২২ আগস্ট ২০২৫

আপডেট: ১০:৩৯, ২২ আগস্ট ২০২৫

কলম্বিয়ায় সন্ত্রাসী হামলায় ১৪ নিহত

কলম্বিয়ায় সন্ত্রাসী হামলায় ১৪ নিহত
ছবি: সংগৃহীত

কলম্বিয়ায় পুলিশের একটি হেলিকপ্টারে হামলা ও সামরিক বিমানঘাঁটির কাছে বিস্ফোরণে কমপক্ষে ১৪ জন নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও ৫৮ জন। সরকারি কর্মকর্তারা একে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তবে দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

সিএনএনের খবরে বলা হয়, অ্যান্টিওকিয়া প্রদেশে মাদক ধ্বংসের কাজে সহায়তাকারী জাতীয় পুলিশের একটি হেলিকপ্টার ড্রোন হামলার শিকার হয়। এতে দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। প্রদেশের গভর্নর আন্দ্রেস জুলিয়ান রেন্ডন সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যেখানে দেখা যাচ্ছে হেলিকপ্টারটি পাহাড়ি এলাকায় বিধ্বস্ত হচ্ছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেদ্রো আর্নুলফো সানচেজ জানান, এ হামলার পেছনে রয়েছে সাবেক বিদ্রোহী সংগঠন ফার্ক থেকে বেরিয়ে আসা ‘ইসটাডো মেয়র সেন্ট্রাল (ইএমসি)’-এর ৩৬তম ফ্রন্ট। প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো প্রথমে ধারণা করেছিলেন, শক্তিশালী অপরাধী সংগঠন ‘গালফ ক্ল্যান’ হয়তো জড়িত থাকতে পারে। কারণ সম্প্রতি উরাবা অঞ্চলে বিপুল পরিমাণ কোকেন জব্দ করা হয়েছিল। তবে পরে তিনি দায় চাপান ফার্ক বিদ্রোহীদের এই অংশের ওপর।

জাতীয় পুলিশের প্রধান কার্লোস ফের্নান্দো ত্রিয়ানা বেলত্রান হামলাটিকে সরাসরি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আখ্যা দেন এবং জানান, আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রেসিডেন্টের হিসাবে, ওই হামলায় অন্তত আটজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন।

এদিকে একই দিনে কালি শহরের মার্কো ফিদেল সুয়ারেজ সামরিক বিমানঘাঁটির কাছে শক্তিশালী একটি গাড়িবোমা বিস্ফোরণ ঘটে। এতে অন্তত ছয়জন নিহত ও ৫০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে।

কলম্বিয়ার বিমানবাহিনী এ ঘটনাকেও সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে উল্লেখ করেছে। কালি শহরের মেয়র আলেহান্দ্রো এদার জানিয়েছেন, শহরের প্রবেশ ও প্রস্থান পথগুলোতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জরুরি সেবা কর্মীরা আহতদের চিকিৎসা দিচ্ছেন। হামলার সঙ্গে জড়িতদের তথ্য দিলে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন পেসো (প্রায় এক লাখ মার্কিন ডলার) পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।

তবে এখন পর্যন্ত বিস্ফোরণের দায় কোনো পক্ষ স্বীকার করেনি। এর আগে, চলতি বছরের জুনে কালি ও কউকা অঞ্চলের বিভিন্ন শহরে একাধিক হামলায় অন্তত সাতজন নিহত ও ২৮ জন আহত হয়েছিলেন। সে সময় প্রসিকিউটর অফিস জানিয়েছিল, ২০২২ সালে স্থানীয় এক ফার্ক নেতার মৃত্যুর প্রতিশোধ হিসেবেই ওই হামলা চালানো হয়েছিল।