শুক্রবার, ২৯ আগস্ট ২০২৫

|১৩ ভাদ্র ১৪৩২

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪:৫১, ১৮ জুলাই ২০২৫

আপডেট: ১৪:৫৪, ১৮ জুলাই ২০২৫

মৌলিক সংস্কার এড়ানোর সুযোগ নেই, সনদ হলেই নির্বাচন: প্রধান উপদেষ্টা 

মৌলিক সংস্কার এড়ানোর সুযোগ নেই, সনদ হলেই নির্বাচন: প্রধান উপদেষ্টা 

সাংবিধানিক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান গঠনের বিধান সংবিধানে সুনির্দিষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা, ভোটের অনুপাতে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন এবং নারী আসনে সরাসরি নির্বাচনের মতো কয়েকটি বিষয়কে ‘মৌলিক সংস্কার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, এসব সংস্কার এড়ানোর সুযোগ নেই। সনদ চূড়ান্ত হলেই দ্রুত নির্বাচন দিতে হবে।

বৃহস্পতিবার রাতে তার বাসভবন ‘যমুনা’-তে ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন বলে জানিয়েছে একটি সূত্র। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা নিজেই সভাপতিত্ব করেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জুলাই সনদ তৈরির প্রক্রিয়া যেন স্বচ্ছ ও দৃশ্যমান হয়, সে বিষয়ে বৈঠক থেকে নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। বৈঠকে অংশ নেন কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ এবং সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. ইফতেখারুজ্জামান, সফর রাজ হোসেন, বিচারপতি এমদাদুল হক ও ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মুখ্য সচিব সিরাজ উদ্দিন মিয়া ও বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।

সাংবিধানিক, নির্বাচন ব্যবস্থা ও বিচার বিভাগ সংস্কারে ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে দ্বিতীয় পর্বে টানা ১৪ দিন সংলাপ করেছে ঐকমত্য কমিশন। উচ্চকক্ষ গঠনের পদ্ধতি নিয়ে এখনও ঐকমত্য না হলেও এ নিয়ে চার দিন ধরে আলোচনা হয়েছে।

পিআর পদ্ধতির বিরোধিতা করে বিএনপি সংসদের নিম্নকক্ষের আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। বিপরীতে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, এবি পার্টি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টিসহ ২১টি দল জানিয়েছে, তারা শুধুমাত্র পিআর পদ্ধতির উচ্চকক্ষ মেনে নেবে। জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন সংসদ নির্বাচনেও পিআর প্রণালীর দাবি জানিয়েছে।

বৈঠক সূত্র জানায়, সংলাপে অচলাবস্থার বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টাকে জানানো হলে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যাতে সংবিধান নিয়ে ইচ্ছেমতো কাটাছেঁড়া না হয়, সে লক্ষ্যে ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন সংবিধানে মৌলিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।

ঐকমত্য কমিশন সুপারিশ করেছে, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর একক সিদ্ধান্ত কমিয়ে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন ও মানবাধিকার কমিশনে নিয়োগ দেওয়া হবে। এ কমিটিতে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা থাকবেন। বিএনপি এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও অন্য দলগুলো এতে সম্মতি দিয়েছে।

নারী আসনের বিষয়ে কমিশনের প্রস্তাব, সংসদে সংরক্ষিত ১০০ নারী আসনে সরাসরি নির্বাচন হবে। এনসিপি এই প্রস্তাবকে সমর্থন করলেও বিএনপি চায় বিদ্যমান পদ্ধতি বজায় থাকুক এবং জামায়াত চায় পিআর পদ্ধতি। প্রধান উপদেষ্টা এ প্রসঙ্গে বলেন, যেকোনো পদ্ধতিতে হোক, নারী আসনে সরাসরি নির্বাচন বাধ্যতামূলক। বর্তমানে প্রচলিত পদ্ধতি নারীর প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে না, বরং তা একটি ধোঁকা।

ঐকমত্য কমিশনের মেয়াদ ১৫ আগস্ট শেষ হবে। তার আগেই ‘জুলাই সনদ’ প্রণয়নের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। এই সনদে উল্লেখ থাকবে—কোন কোন সংস্কার কীভাবে, কত দিনে ও কোন প্রক্রিয়ায় বাস্তবায়িত হবে। সনদ চূড়ান্ত হলেই নির্বাচন আয়োজন করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজ বৈঠকে জানান, ৫ আগস্টের মধ্যে চূড়ান্ত সনদ তৈরির কাজ শেষ করার প্রচেষ্টা চলছে। প্রধান উপদেষ্টার মতে, টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত সংলাপের ফলে জনগণ ও আন্তর্জাতিক মহল পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে দেখতে পারছে এবং এ উদ্যোগ ইতিমধ্যেই প্রশংসিত হয়েছে।

আলী রীয়াজ আরও জানান, দ্বিতীয় দফা সংলাপে আটটি বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে এবং আরও সাতটি বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে ঐকমত্যে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে।