পরিকল্পিত মব সৃষ্টি করে তৌহিদ আফ্রিদি-নাসির উদ্দীনের গ্রেফতার: ভিপি নুর

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বলেছেন, পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ‘মাই টিভি’-এর চেয়ারম্যান নাসির উদ্দীন সাথী ও তার ছেলে কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেফতার করিয়েছেন। তিনি এই ঘটনাকে ‘জনকণ্ঠ দখলের পুনরাবৃত্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
রোববার দিবাগত রাত ১টা ৬ মিনিটে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া পোস্টে নুর লেখেন, দীর্ঘদিন ধরে নগদ ৫ কোটি টাকা বা শেয়ার লিখে নেওয়ার চেষ্টা চলছিল। সমঝোতা না হওয়ায় ডিজিটাল ও ফিজিক্যাল মব ব্যবহার করে প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত আফ্রিদি ও তার বাবাকে গ্রেফতার করানো হয়।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘তৌহিদ আফ্রিদি ও তার বাবাকে যাত্রাবাড়ী থানার ‘ছাত্র হত্যা’ মামলায় এক বছর পর গ্রেফতার করা হলো। মামলার বাদী কি জানেন কাদের আসামি করা হয়েছিল? আফ্রিদি কিংবা তার বাবা কি সত্যিই ছাত্র হত্যা করেছেন এটা কি প্রমাণ করা সম্ভব? তাহলে কেন এই নাটক?’
নুর আরও লেখেন, যদি আফ্রিদি আওয়ামী লীগের হয়ে কোনো কার্যক্রমে জড়িত থাকতেন, তবে নির্দিষ্ট অভিযোগে মামলা করা যেত। কিন্তু তা না করে যাত্রাবাড়ীর ‘ছাত্র হত্যা’ মামলায় ভিত্তিহীনভাবে গ্রেফতার করা হলো। বিপ্লবের চেতনায় দখলদার হয়ে ওঠা ফিজিক্যাল ও ডিজিটাল মবের চাপের কারণে প্রশাসন অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এর প্রভাব প্রশাসন ও সমাজে সংকট তৈরি করছে, যা সবাই উপলব্ধি করছে কি না, তা প্রশ্নবিদ্ধ।
ডাকসুর সাবেক ভিপি বলেন, সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকার কারণে এই গ্রেফতার বিদেশি ও দেশি মানবাধিকার সংস্থার নজরে আসবে। এতে প্রমাণ হবে, যারা ঘটনায় জড়িত নয় গণমাধ্যমকর্মী, ব্যবসায়ী বা সেলিব্রিটিদেরও মবের চাপের কারণে অন্যায়ভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। এর ফলে প্রশাসনের বিরুদ্ধে গ্রেফতার বাণিজ্য, মামলা বানানো ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রবল হবে। প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে সরকার বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পিছপা হবে। এসব ভুল পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত ফ্যাসিবাদের পথ প্রশস্ত করবে।
তিনি বলেন, ‘জনকণ্ঠ’ দখলের মতো ‘মাই টিভি’ দখলেও যারা প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, তাদের মুখোশ উন্মোচন করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।
প্রসঙ্গত, জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে আসাদুল হক বাবু হত্যার মামলায় তৌহিদ আফ্রিদিকে ২৪ আগস্ট রাতে বরিশাল থেকে সিআইডি গ্রেফতার করে। পরদিন আদালত তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠায়। মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ীতে জুলাই আন্দোলনে মো. আসাদুল হক বাবু আঘাতপ্রাপ্ত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মামলায় নিহতের বাবা জয়নাল আবেদীন গত বছরের ৩০ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন। মোট ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে, যার মধ্যে নাসির উদ্দীন সাথী ছিলেন ২২ নম্বর, আর তার ছেলে তৌহিদ আফ্রিদি ১১ নম্বর আসামি হিসেবে তালিকাভুক্ত।