গাজীপুরে একটি মার্কেটের দখল ও মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে শতাধিক ব্যবসায়ীকে একাধিক মামলায় জড়িয়ে হয়রানির অভিযোগ ওঠার পর লালমনিরহাটের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মো. আরিফুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অদক্ষতা ও অসদাচরণের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে বলা হয়, অভিযোগের যথাযথ তদন্ত ও অনুসন্ধান নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শে তাঁকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা, ২০১৭-এর বিধি ২-এর (ক) ও (চ) ধারায় যথাক্রমে অদক্ষতা ও অসদাচরণের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। একই বিধিমালার ১১ নম্বর বিধি অনুসারে এ সাময়িক বরখাস্ত কার্যকর করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন বিধি অনুযায়ী খোরাকি ভাতা পাবেন তিনি।
বিচারক আরিফুল ইসলামকে ঘিরে বিতর্কের সূত্রপাত গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার হাজী হোসেন পাইকারি মার্কেটের জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধ থেকে। এ ঘটনায় বিচারকের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের হয়রানি এবং বিভিন্ন জেলায় একের পর এক মামলা করার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে তা আলোচনায় আসে।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, মার্কেটের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ছয় জেলায় ১৮টি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় বিচারকের আত্মীয় তৌহিদুল ইসলাম মজিবরসহ প্রায় ১৫০ ব্যবসায়ীকে আসামি করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
তৌহিদুল ইসলামের ভাষ্য, তাঁর বাবার মৃত্যুর পর ২০১১ সাল থেকে মার্কেটের দখল নিয়ে পারিবারিক বিরোধ শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে বিচারক আরিফুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর পরিবারের বৈবাহিক সম্পর্ক তৈরি হলে বিরোধ আরও জটিল আকার ধারণ করে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মার্কেটের দখল ও ভাড়া আদায়কে কেন্দ্র করে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায় মামলা করা হয়েছে।
তবে এর আগে বিচারক আরিফুল ইসলাম অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বিরোধটিকে পারিবারিক সম্পত্তির বিষয় বলে উল্লেখ করেছিলেন। তাঁর স্ত্রীও জমির মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকার কথা জানিয়েছিলেন।
এদিকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ অবিলম্বে কার্যকরের কথা প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সদ্য সংবাদ/এসএস