‘দৃষ্টি যেখানে সীমিত, সম্ভাবনা সেখানে সীমাহীন’—এ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে ঠাকুরগাঁওয়ে নানা আয়োজনে বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস-২০২৬ উদ্যাপন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি, বেলুন উড্ডয়ন, আলোচনা সভা ও স্মার্ট সাদাছড়ি বিতরণ করা হয়। এ সময় জেলার ছয়টি প্রতিবন্ধী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১৪ শিক্ষার্থীর হাতে সাদাছড়ি তুলে দেন অতিথিরা।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। এতে জেলার বিভিন্ন প্রতিবন্ধী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়।
পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আলোচনা সভা ও স্মার্ট সাদাছড়ি বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ঠাকুরগাঁও জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক আবু তাহেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের কনসালট্যান্ট (ফিজিওথেরাপি) ডা. আল মানসুর।
বক্তারা বলেন, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় চলাচল নিশ্চিত করতে সাদাছড়ি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট সাদাছড়ির ব্যবহার তাঁদের চলাচল আরও সহজ ও নিরাপদ করতে সহায়ক হতে পারে। তবে শুধু সহায়তা প্রদানই যথেষ্ট নয়; প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার, মর্যাদা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করতেও সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রতিবন্ধী শিশুদের জীবনমান উন্নয়ন, তাঁদের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা এবং শিক্ষা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির সুযোগ নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা নিজেদের ইচ্ছা, স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে। একই সঙ্গে করুণা বা বোঝা হিসেবে নয়, বরং দেশের সম্ভাবনাময় সম্পদ হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানায় তারা।
বক্তারা আরও বলেন, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আত্মনির্ভরশীলতা বাড়ানো এবং সমাজের মূলধারায় তাঁদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। উপযুক্ত পরিবেশ ও সুযোগ পেলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও নিজেদের মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে দেশ ও সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নাজমুল হক সুমন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আলমগীর রহমান, জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ফয়সাল হাসান, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী উপপরিচালক সাইয়েদা সুলতানা এবং জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মামুনুর রশীদসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
এ সময় ঠাকুরগাঁওয়ের ছয়টি প্রতিবন্ধী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ ১৩০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। তাদের মধ্যে ১৪ জনের হাতে সাদাছড়ি তুলে দেওয়া হয়।
সাদাছড়ি পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা জানান, এটি নিরাপদে চলাচল করতে এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করতে চায়। এ জন্য তারা সমাজের মানুষের সহযোগিতা ও সমান সুযোগ প্রত্যাশা করে।
এক শিক্ষার্থী বলে, “সাদাছড়ি পেয়ে আমাদের খুব ভালো লাগছে। এটি আমাদের চলাফেরায় সহায়তা করবে। আমরা পড়াশোনা করে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।”
আরেক শিক্ষার্থী জানায়, “আমরা কারও বোঝা হয়ে থাকতে চাই না। সুযোগ পেলে আমরাও নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারব এবং দেশের জন্য কাজ করতে পারব।”
দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচির মাধ্যমে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা, তাঁদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমাজের সর্বস্তরে সমান মর্যাদা ও অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
সদ্য সংবাদ/ এআর