রাজধানীর পল্টন থানায় দায়ের করা বিএনপিকর্মী মুশফিকুর রহমান আবিরকে হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত পুলিশের আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। সুলতান মনসুর মৌলভীবাজার-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবু সালেহ তাকে আদালতে হাজির করে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী ওই আবেদন নাকচ করার অনুরোধ জানান। তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ পুলিশের আবেদনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন এবং কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২২ সালের ৪ ডিসেম্বর রাজধানীর কলাবাগানের লেক সার্কাস এলাকায় সড়ক থেকে মুশফিকুর রহমান আবিরকে কয়েকজন ব্যক্তি গাড়িতে তুলে নিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তাকে হাজারীবাগের একটি ট্যানারির গুদামে আটকে রেখে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং পরিচিতদের ফোন নম্বর দিতে চাপ দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, আবিরের কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়েছিল। পরে তার পরিবারের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা নেওয়ার পর ৫ ডিসেম্বর সকালে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এজাহারে ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর বিএনপির সমাবেশ ঘিরে নয়াপল্টন ও আশপাশের এলাকায় হামলা, গুলিবর্ষণ, টিয়ারশেল নিক্ষেপ এবং লাঠিচার্জের ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে। এসব ঘটনায় তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের ইন্ধন ও নির্দেশনা থাকার অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর হাজারীবাগ থানায় মামলা করার চেষ্টা করেও তিনি সফল হননি। পরে ২০২৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পল্টন থানায় মামলাটি দায়ের করেন তিনি। এ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
সদ্য সংবাদ/এসএস