রাশিয়ার জ্বালানি খাতে আবারও হামলা জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তাঁর দাবি, রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে আর কোনো বিরতি থাকছে না। একই সঙ্গে ইউক্রেনের সামরিক কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা এবং রাশিয়ার সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য ব্যবসায়িক সম্পর্ক নিয়েও অসন্তোষ জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ফিন্যানশিয়াল টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি এসব কথা বলেন। তিনি জানান, তেল শোধনাগারগুলোতে হামলা চালানোর ওপর আরোপিত বিরতি প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো এখন আবারও ইউক্রেনের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাশিয়াসংক্রান্ত নীতির সমালোচনা করেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট। মস্কোর সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি করার বিষয়ে ওয়াশিংটনের আগ্রহ এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন নিয়ে নিজের অসন্তুষ্টির কথা তুলে ধরেন তিনি।
এর আগে গত শনিবার জেলেনস্কিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় ইউক্রেনের হামলার সমালোচনাও করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এর আগের দিন রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল সরবরাহের একটি চুক্তির কথা জানিয়েছিলেন তিনি। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় তা নিয়ন্ত্রণে আনার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জেলেনস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ রাখার বিষয়ে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার পর ইউক্রেন দুই দিনের জন্য রাশিয়ার তেল শোধনাগারসহ অন্যান্য জ্বালানি অবকাঠামোয় আক্রমণ স্থগিত রেখেছিল। তবে ওই সময় ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
জেলেনস্কি ফিন্যানশিয়াল টাইমস-কে জানান, ওই সময়ে ইউক্রেনীয় সেনারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগাম সতর্কবার্তা পাচ্ছিলেন না। পাশাপাশি ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান পরিচালিত স্যাটেলাইট যোগাযোগব্যবস্থা স্টারলিংকের গতি ইউক্রেনজুড়ে কমে গিয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, এতে যুদ্ধের সম্মুখসারিতে সেনাদের কার্যক্রম এবং রাশিয়ার সামরিক স্থাপনায় মাঝারি পাল্লার হামলা পরিচালনা ব্যাহত হয়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা কিয়েভকে জানিয়েছিলেন, রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ না করলে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। পরে অবশ্য ইউক্রেনকে জানানো হয়, বিষয়টি কারিগরি ত্রুটির কারণে ঘটেছিল। তবে স্টারলিংক বা অন্য কোনো প্রযুক্তিগত সমস্যাকে এর কারণ হিসেবে মানতে নারাজ জেলেনস্কি।
তাঁর অভিযোগ, স্যাটেলাইট যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটার ঘটনাটি নিছক প্রযুক্তিগত সমস্যা ছিল না; বরং এটি ছিল ইচ্ছাকৃত সিদ্ধান্ত।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের স্বার্থে রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ রাখার সম্ভাবনাও পুরোপুরি নাকচ করেননি জেলেনস্কি। এ বিষয়ে তাঁর শর্ত হলো, বিনিময়ে ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি আরও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধব্যবস্থা দিতে হবে। তিনি এটিকে এমন সমঝোতার ক্ষেত্রে নিজের গ্রহণযোগ্য সর্বনিম্ন শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সূত্র: ফিন্যানশিয়াল টাইমস
সদ্য সংবাদ/এসএস