মুন্সিগঞ্জের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা বিএনপির বর্ষীয়ান নেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুল হাই মারা গেছেন। পাঁচবারের সাবেক এই সংসদ সদস্য বুধবার দিবাগত রাতে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে মুন্সিগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের আবহ বিরাজ করছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল হাইয়ের জানাজা জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। পরে মুন্সিগঞ্জে তাঁর দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
রাজনৈতিক জীবনে আব্দুল হাই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জাতীয় সংসদের প্যানেল স্পিকার ছিলেন। মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি। বিভিন্ন সময়ে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে এলাকার প্রতিনিধিত্ব করেন এই রাজনীতিবিদ।
১৯৪৯ সালের ৫ জানুয়ারি মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আব্দুল হাই। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি। ১৯৭৩ সালে পঞ্চসার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর পথচলা শুরু হয়।
পরবর্তী সময়ে ১৯৭৮ সালে বিএনপিতে যোগ দেন আব্দুল হাই। এর পরের বছর, ১৯৭৯ সালে, প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তিনি মুন্সিগঞ্জের রাজনীতিতে নিজের অবস্থান তৈরি করেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই নেতার মৃত্যুতে রাজনৈতিক সহকর্মী, বিএনপির নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা শোক প্রকাশ করছেন। তাঁর মৃত্যুতে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে একজন অভিজ্ঞ নেতার বিদায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সদ্য সংবাদ/এসকে