ঝিনাইদহের শৈলকুপায় বিদ্যালয়ে দেরিতে উপস্থিত হওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে এক প্রধান শিক্ষককে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। নাগেরহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শিক্ষকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় পাঠদান।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, দশম শ্রেণির নির্বাচনী পরীক্ষার দিন সকালে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন প্রধান শিক্ষক মুকুল হোসেন। পরে শ্রেণিকক্ষের বেঞ্চ বসার অনুপযোগী থাকার বিষয়টি শিক্ষার্থীরা তাঁকে জানায়। এ সমস্যা সমাধানের জন্য বিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ফরিদুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল ধরেননি বলে দাবি প্রধান শিক্ষকের।
পরে বেলা ১১টার দিকে বিদ্যালয়ে পৌঁছালে ফরিদুলের কাছে দেরিতে আসার কারণ জানতে চান প্রধান শিক্ষক। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা এবং পরে হাতাহাতি হয়। প্রধান শিক্ষকের অভিযোগ, এ সময় ফরিদুল তাঁকে মারধর করেন।
প্রধান শিক্ষক মুকুল হোসেন জানান, সকালে বিদ্যালয়ে এসে তিনি বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত ছিলেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ পাওয়ার পর পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। পরে তাঁর দেরিতে আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে হামলা করেন। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে এমন ঘটনার মুখোমুখি আগে হননি বলেও জানান মুকুল হোসেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ফরিদুল ইসলাম। তাঁর দাবি, দেরিতে বিদ্যালয়ে পৌঁছানোর কারণে প্রধান শিক্ষক তাঁকে বকাঝকা করেন। এর প্রতিবাদ করলে প্রধান শিক্ষক তাঁকে চড় মারেন। পরে তিনিও প্রধান শিক্ষককে কিল-ঘুষি মারেন বলে স্বীকার করেন।
ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন অভিভাবক সোহেল খান। তিনি জানান, প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে বসে কথা বলার সময় ফরিদুল সেখানে এসে তর্কে জড়ান। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। তাঁর দাবি, পরে ফরিদুল প্রধান শিক্ষককে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন।
বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি রাকিবুল হাসান খান দিপু ঘটনাটিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, বিদ্যালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। অভিযুক্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনাও দিয়েছেন।
শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি ঘিরে বিদ্যালয়ে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় পাঠদান ব্যাহত হয়। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দায়েরের তথ্য জানায়নি পুলিশ।
সদ্য সংবাদ/এসএস