পুলিশ কর্মকর্তার বদলি চাকরিজীবনের নিয়মিত ঘটনা। দায়িত্ব শেষ করে অন্য কর্মস্থলে যাওয়ার সময় সহকর্মীদের আনুষ্ঠানিক বিদায় জানানোর ঘটনাও নতুন নয়। তবে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আফজাল হোসেনের বিদায় অনুষ্ঠানে দেখা গেল ভিন্ন এক চিত্র।
বুধবার সকালে নতুন কর্মস্থলের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে আফজাল হোসেনকে বিদায় জানাতে থানার সামনে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সহকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে আসেন। বিদায়ী ওসির জন্য কেউ বাড়ির গাছের লাউ, কেউ মৌসুমি ফল, আবার কেউ হাঁস-মুরগি উপহার হিসেবে নিয়ে আসেন।
পরে দুপুর ১২টার দিকে হরিরামপুর থানা চত্বরে বিদায়ী ওসি আফজাল হোসেনকে বিদায় এবং নতুন ওসি জে ও এম তৌফিক আজমকে বরণ উপলক্ষে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। এতে রাজনৈতিক নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় বাসিন্দারা ফুলের মালা ও তোড়া দিয়ে আফজাল হোসেনকে শুভেচ্ছা জানান। তাঁকে ঘিরে অনেকেই ছবি তোলেন এবং কুশল বিনিময় করেন। দায়িত্ব পালনের সময়কার নানা স্মৃতিও তুলে ধরেন স্থানীয়রা। এসব মুহূর্তে থানা প্রাঙ্গণে তৈরি হয় আবেগঘন পরিবেশ।
এম এ রাজ্জাক উচ্চবিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ওসমান আলী জানান, দায়িত্বে থাকাকালে আফজাল হোসেন নিয়মিত সকালে হাঁটতে বের হতেন। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখার পাশাপাশি স্থানীয় পরিস্থিতি সম্পর্কে সরাসরি খোঁজ নিতেন। কোথাও কোনো সমস্যা নজরে এলে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতেন তিনি।
চরাঞ্চলের লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের ৮০ বছর বয়সী চাঁন মেম্বারের ভাষায়, আফজাল হোসেন দায়িত্বে থাকার সময়ে তাঁদের এলাকায় চুরি-ডাকাতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন। চরাঞ্চলের শান্তি বজায় রাখা এবং মাদক নিয়ন্ত্রণেও তিনি কাজ করেছেন বলে জানান তিনি।
চরাঞ্চলের বাসিন্দা মাইন উদ্দীন বলেন, তাঁদের এলাকায় চুরি ও ডাকাতি নিয়ন্ত্রণে আফজাল হোসেনের ভূমিকার কথা তাঁরা মনে রাখবেন। সেই কৃতজ্ঞতা থেকেই নদী পেরিয়ে ট্রলারে করে বিদায়ী ওসির জন্য উপহার হিসেবে একটি হাঁস নিয়ে এসেছেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের এমন ভালোবাসা ও সম্মানে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আফজাল হোসেন। তিনি বলেন, হরিরামপুরবাসী যেভাবে বিদায়ের আয়োজন করেছেন, তাতে তিনি আবেগী হয়ে গেছেন।
বিদায়ী ওসি বলেন, চাকরির অংশ হিসেবেই বদলি হতে হয়। হরিরামপুরে দায়িত্ব পালনের সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে তিনি সবসময় সহযোগিতা পেয়েছেন। বিদায়ের মুহূর্তে হরিরামপুরের মানুষ যে সম্মান ও ভালোবাসা দেখিয়েছেন, তা তিনি কখনো ভুলবেন না।
সদ্য সংবাদ/ এআর