দিনাজপুরে এক কৃষককে অপহরণ করে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এনসিপির যুব শাখার পাঁচ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার সন্ধ্যায় শহরের গোরে শহীদ ময়দান এলাকা থেকে একটি সাদা ব্যক্তিগত গাড়িসহ তাদের আটক করা হয়। পরে মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন জাতীয় যুব নাগরিক শক্তির রংপুর বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো. আরিফ মুন (২৯), হাসিন ইশরাক মিম (২২), আজমির হোসেন (২২), সাজিদুল মিনহাজ (২৬) এবং হৃদয় হোসেন (২২)।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের খোশালপুর পুকুরপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুস সামাদ (৫৯) গত ৫ জুলাই রাতে পল্লী বিদ্যুৎ পাঁচ মাইল এলাকায় তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী রেনু বেগমের বাড়িতে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে অভিযুক্তরা তাঁকে এবং তাঁর নাতি রিফাত ইসলামকে মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের পর আব্দুস সামাদকে তাঁর মোটরসাইকেল ও মুঠোফোনসহ জোর করে তুলে নিয়ে যায়।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, পরদিন ৬ জুলাই দুপুরে অপহৃত আব্দুস সামাদের মুঠোফোন থেকে তাঁর ছেলে মো. মামুনের কাছে কল করে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, শহরের গোরে শহীদ ময়দান এলাকায় টাকা পৌঁছে দিলে আব্দুস সামাদকে ছেড়ে দেওয়া হবে, অন্যথায় তাঁকে হত্যা অথবা গুরুতর জখম করার হুমকি দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে গোরে শহীদ ময়দান এলাকা থেকে আব্দুস সামাদকে উদ্ধার করে। একই সময় একটি ব্যক্তিগত গাড়িসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়। উদ্ধার করা হয় আব্দুস সামাদের মোটরসাইকেল ও মুঠোফোনও।
এ ঘটনায় আব্দুস সামাদের ছেলে মো. মামুন বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ১০ থেকে ১২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে অপহরণ ও চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন।
গ্রেপ্তারের পর কোতোয়ালি থানায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পুলিশ জানায়, এনসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা থানায় গিয়ে আটক ব্যক্তিদের ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটে। পরে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও থানায় অবস্থান নেন। এ সময় কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে এনসিপির কিছু নেতাকর্মীর বাগ্বিতণ্ডা ও অসদাচরণের অভিযোগও ওঠে।
দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরুন্নবী বলেন, বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে অপহরণ ও চাঁদাবাজির মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। মামলায় গ্রেপ্তার পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে এবং আরও ১০ থেকে ১২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে গ্রেপ্তারদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্তের স্বার্থে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।