আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জোটের আসন সমঝোতা নিয়ে জটিলতার মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান নিয়ে প্রকাশ্য সংশয় জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ঘোষিত সময়ের মধ্যে আসন ভাগাভাগির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় নতুন জোট গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছেন দলটির মুখপাত্র ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান।
বুধবার বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি দলটির অবস্থান তুলে ধরেন।
এক প্রশ্নের জবাবে গাজী আতাউর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে খালেদা জিয়া প্রতিষ্ঠিত ঐক্যের পাটাতন পুনর্গঠনের কথা বলেছেন। এই বক্তব্য ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে সংশয় তৈরি করেছে—জামায়াত জাতীয় পার্টির মতো ভূমিকা পালন করবে কি না, সে প্রশ্ন সামনে এসেছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ হিসেবে ইসলামী আন্দোলনের অংশগ্রহণের কথা থাকলেও আসন ভাগাভাগি নিয়ে মতৈক্য না হওয়ায় বুধবার বিকেলে ঘোষিত যৌথ সংবাদ সম্মেলন শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়। দলীয় সূত্র জানায়, ইসলামী আন্দোলন ৫০টি আসন দাবি করলেও জামায়াত ৪০টির বেশি আসন ছাড়তে রাজি নয়।
সংবাদ সম্মেলনে গাজী আতাউর রহমান স্বীকার করেন, আসন সমঝোতার ক্ষেত্রে বাস্তব সংকট রয়েছে। তিনি বলেন, কারও চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত ইসলামী আন্দোলন কখনোই মেনে নেয়নি এবং ভবিষ্যতেও নেবে না। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্মানের ভিত্তিতে সমঝোতা হলে আসনসংখ্যা নিয়ে সমস্যা থাকত না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগে সমঝোতা হবে—এমন প্রত্যাশা থাকলেও গতকাল পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি। এ পরিস্থিতিতে দলের বিভিন্ন স্তরের নেতা, মাঠপর্যায়ের কর্মী ও প্রার্থীদের মতামত নেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে মজলিসে আমেলার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জোটসঙ্গীদের বিরুদ্ধে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে গাজী আতাউর রহমান বলেন, ৩০০ আসনেই একটি দল প্রচার চালাচ্ছে এবং জোটের পক্ষ থেকে তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত—এমন দাবি করা হচ্ছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এ ধরনের মিথ্যাচার হলে ভবিষ্যতে একসঙ্গে পথচলা কঠিন হয়ে যাবে।
আগামীর কৌশল নিয়ে তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন শুরু থেকে যাদের সঙ্গে পথ চলেছে, তাদের সঙ্গেই যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত চূড়ান্তভাবে জানানো হবে।
এককভাবে নির্বাচনে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখনো এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে এবং সবার সঙ্গে আলোচনা করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জামায়াতের সঙ্গে জোট যে চূড়ান্ত নয়, সেই ইঙ্গিত দিয়ে গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘২০ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি। এর আগপর্যন্ত যেকোনো কিছু ঘটতে পারে।’