সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬ নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর দাবি, নতুন আইনটি কোরআন-সুন্নাহর পরিপন্থি এবং এর ফলে সমাজ ও পরিবারে নানা ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। আইনটি প্রত্যাহারেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লং মার্চের সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, সরকার এমন একটি আইন পাস করেছে, যা তাদের ভাষায় কোরআন ও সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ ধরনের আইন করার জন্য সরকারকে রাজনৈতিক মূল্য দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে আইনটি প্রত্যাহারের দাবি জানান জামায়াতের আমির।
এ সময় গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন শফিকুর রহমান। তাঁর বক্তব্য, জনগণ গণভোটে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে; কিন্তু সরকার সেই রায়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে কাজ করছে না।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংবিধানে গণভোটের বিধান নেই- এমন যুক্তি দেখিয়ে গণভোটের রায় অস্বীকার করা যায় না। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময়ও সংবিধানের প্রচলিত কাঠামোর বাইরে গিয়ে পরিবর্তন এসেছে। ফলে সংবিধান মানার ক্ষেত্রে সরকারকে পুরো বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে।
বিএনপি সরকার গঠনের পর নির্বাচনের আগে দেওয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, ক্ষমতায় যাওয়ার পর সরকার একের পর এক বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান নিচ্ছে। আগের সরকারের পথ অনুসরণ করলে তার পরিণতিও একই হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।
১১ দলীয় ঐক্যের লং মার্চ প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হলে এ ধরনের কর্মসূচির প্রয়োজন হতো না। সরকারের প্রতি প্রতিশ্রুতি পূরণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দাবি বাস্তবায়ন না হলে সংসদের ভেতরে প্রতিবাদের পাশাপাশি রাজপথেও আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
দেশের বিদ্যুৎ, গ্যাস, সার ও কর্মসংস্থান পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন জামায়াতের আমির। তিনি অভিযোগ করেন, দেশে চাঁদাবাজি বেড়েছে এবং এর প্রভাব পড়ছে দ্রব্যমূল্য ও জনজীবনে। চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও ঘটছে বলে দাবি করেন তিনি।
সমাবেশে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিও তুলে ধরেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে উত্তরবঙ্গকে কৃষির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার কথাও বলেন তিনি।
গণভোট প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান আরও বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের আট দফা কোনো একক দলের দাবি নয়; এগুলো জনগণের অধিকারসংশ্লিষ্ট দাবি। এসব দাবি বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলনের কর্মসূচি আরও কঠোর হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চান ও এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা।
সমাবেশে জোটভুক্ত দলগুলোর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। এর আগে শনিবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লং মার্চ শুরু হয়ে রাতে রংপুর জিলা স্কুল মাঠের সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হয়।
সদ্য সংবাদ/এসকে