শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা এলাকায় জোটের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নির্বাচন আচরণবিধি বিষয়ক এক সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ অভিযোগ করে বলেন, 'নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে, কিন্তু মাঠ পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রত্যাশিত তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। প্রশাসন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি পক্ষপাত দেখাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, 'ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই কিছু রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা কেন্দ্র দখলের পরিকল্পনা করছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর তালিকাও আমরা প্রস্তুত করেছি। নির্দিষ্ট কিছু কেন্দ্রে অস্ত্রের মহড়ার তথ্যও পেয়েছি।'
নির্বাচনের অতীত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, '২০০১ সালের পর থেকে দেশে সত্যিকার অর্থে কোনো ভালো নির্বাচন হয়নি। তবে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আগামী নির্বাচন হবে ঈদের আনন্দের মতো। কিন্তু ভোটার ও প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে, এবং আগেই কেন্দ্র দখলের ছক কষে রাখলে কোনো নির্বাচন ভালো হতে পারে না।'
তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত ও কেন্দ্র দখলের পরিকল্পনাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে। স্থানীয় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ ক্ষমতা আইন বা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি আটক নিশ্চিত করলে সহিংসতা কমানো সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।
এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, 'জোটের নেতাকর্মীদের নিয়মিতভাবে নির্বাচন আচরণবিধি বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং মাঠপর্যায়ে স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে। প্রতিদ্বন্দ্বী কিছু রাজনৈতিক দল আইন লঙ্ঘন করে ব্যানার-পোস্টার ব্যবহার করছে।'
ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, 'যদি এসব অনিয়ম বন্ধ না হয়, তবে ভোটাররা সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতি আস্থা রাখতে পারবে না। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে নির্বাচন আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন ও আইনের সমান প্রয়োগ জরুরি।'
সভায় বাবুগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম, বরিশাল জেলা ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক মো. শাহাদাত হোসেন, বাবুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রশিবির সভাপতি মো. সৌরভ সরদার, এবি পার্টির জেলা সদস্যসচিব ইঞ্জিনিয়ার জি এম রাব্বি, যুগ্ম-আহ্বায়ক মেরিন ইঞ্জিনিয়ার সুজন তালুকদার, যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তানভীর আহমেদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।