সিআইডি সূত্র জানায়, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রামে পার্টটাইম জবের ফাঁদে ফেলে প্রতারক চক্রটি বাদীর কাছ থেকে প্রতারণাপূর্বক মোট ৪টি বিকাশ অ্যাকাউন্ট ও ৯টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ১ কোটি ১০ লাখ ৫৮ হাজার ৩০৫ টাকা হাতিয়ে নেয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে একটি অজ্ঞাত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে বাদীকে বাসায় বসে অনলাইন কাজের প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রথমদিকে কিছু টাস্ক সম্পন্ন করে বাদী সামান্য অর্থ উত্তোলন করতে পারলেও পরবর্তীতে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে প্রতারণার ফাঁদে পড়েন। ওয়ালেটে অর্থ জমা দেখালেও তা উত্তোলনের সুযোগ না দিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে নতুন করে টাকা পাঠাতে বাধ্য করা হয়।
একপর্যায়ে বাদী টাকা ফেরত চাইলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে বাদী ২০২৫ সালের ২১ মে লালবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১৪, ধারা-৪০৬/৪২০/৩৪, দণ্ডবিধি-১৮৬০)।
মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তরের পর তদন্তকালে চক্রের মূলহোতা নাদিম (৩২) কে গ্রেফতার করা হয়। তিনি ২০২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে মো. সোহেল মিয়াসহ অন্যান্য সহযোগীদের নাম প্রকাশ করেন।
আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে সিআইডি মো. সোহেল মিয়াকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ড আবেদনসহ পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম বর্তমানে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার পরিচালনা করছে। চক্রের অন্যান্য সদস্য শনাক্ত ও অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।