ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে মারধর, নির্যাতন এবং ভাড়া বাসা থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক নারী। মঙ্গলবার দুপুরে নবীনগর প্রেসক্লাবে এ ঘটনায় স্বামীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী মুন্নি আক্তার (২৮)।
সংবাদ সম্মেলনে মুন্নি আক্তার বলেন, তিনি ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার রাগীপুর এলাকার মো. সেলিম মিয়ার মেয়ে। প্রায় দুই বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও টিকটকের মাধ্যমে নবীনগরের বাসিন্দা মোহাম্মদ আবু ইউসুফের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে গত বছরের ৫ জানুয়ারি কাজী অফিসের মাধ্যমে তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় দেনমোহর নির্ধারণ করা হয় তিন লাখ টাকা।
মুন্নি আক্তার দাবি করেন, বিয়ের পর তাঁরা প্রায় এক বছর ছয় মাস ধরে ঢাকায় ভাড়া বাসায় এবং প্রায় তিন মাস ধরে নবীনগর পৌরসভার কলেজপাড়ার ‘বেলজিয়াম হাউজে’ ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।
মুন্নির অভিযোগ, বিয়ের কিছুদিন পর তিনি জানতে পারেন তাঁর স্বামীর একাধিক স্ত্রী রয়েছে। এরপর থেকেই বিভিন্ন পারিবারিক বিষয়কে কেন্দ্র করে স্বামী তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও মারধর করতে থাকেন। পাশাপাশি বাবার বাড়ি থেকে যৌতুক হিসেবে টাকা, স্বর্ণালংকার ও বিভিন্ন জিনিসপত্র এনে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। স্বামীর চাপে মুন্নি কয়েক দফায় বাবার বাড়ি থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা এবং আসবাবপত্র কেনার টাকা দেন। টাকা দেওয়ার পর কয়েক দিন ভালো থাকলেও পরবর্তীতে আবারও টাকা ও জিনিসপত্রের জন্য চাপ দেওয়া হতো। টাকা বা প্রয়োজনীয় জিনিস দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে মারধর ও নির্যাতন করা হতো এবং তাঁর বাবা-মাকে নিয়েও গালাগাল করা হতো বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মুন্নি আক্তার বলেন, গত ১২ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে তাঁর স্বামী আবারও বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ দেন। এতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করলে স্বামী তাঁকে মারধর করে ভাড়া বাসা থেকে বের করে দেন। এ সময় বাসার কেয়ারটেকারকেও বিষয়টি জানানো হলে তিনিও তাঁকে বাসা থেকে বের করে দেওয়ার জন্য ভয়ভীতি ও হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেছেন মুন্নি। তাঁর দাবি, গত তিন দিন ধরে তিনি তাঁর ভাড়া বাসায় যেতে পারছেন না। তাঁর স্বামী বাসায় তালা লাগিয়ে রেখেছেন। এ অবস্থায় নিরাপত্তাহীনতায় পড়ে তিনি নবীনগর থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দিতে বাধ্য হয়েছেন। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মুন্নি আক্তার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আবু ইউসুফ মুন্নি আক্তারের সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যমূলক বলে দাবি করেন।
সদ্য সংবাদ/ এআর