মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে আগামী ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের নদ-নদী ও জলসীমায় ইলিশ আহরণ বন্ধ থাকবে। একই সময়ে ইলিশ পরিবহন, সংরক্ষণ, বাজারজাত, বিক্রি ও বিনিময়ের ওপরও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে ইলিশ সম্পদ উন্নয়নসংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন মা ইলিশ রক্ষায় দেশের বিভিন্ন নদী ও প্রজনন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সময় মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা জেলেদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ভিজিএফের আওতায় খাদ্য সহায়তা দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
সভায় মন্ত্রী বলেন, ইলিশের উৎপাদন ধরে রাখতে মা ইলিশ সংরক্ষণে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো হবে না। বিশেষ করে বরিশাল, চাঁদপুর ও ভোলাসহ ইলিশের গুরুত্বপূর্ণ প্রজনন এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, নৌ পুলিশ ও কোস্টগার্ডকে সমন্বিতভাবে অভিযান চালাতে বলা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত নৌযান ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহের ব্যবস্থাও রাখা হবে।
শুধু নদীতে মাছ ধরার ওপর নজরদারি নয়, অবৈধভাবে আহরণ করা ইলিশ যাতে দেশের বাজারে পৌঁছাতে না পারে, সেদিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এজন্য বরফকল, মাছের আড়ত ও বিভিন্ন বাজারে তদারকি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চাঁদপুর মোহনা এবং অন্যান্য প্রজননক্ষেত্রে নিষিদ্ধ জাল উদ্ধারে অভিযান জোরদার করা হবে।
সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধানে গবেষণা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। উৎপাদন কমার পেছনে কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান তিনি।
অবৈধ ও নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। এসব জাল তৈরি ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি জেলেদেরও নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার না করতে সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
নিষেধাজ্ঞার সময় প্রকৃত জেলেরা যাতে সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে তদারকি বাড়ানোর কথাও সভায় উঠে আসে।
ইলিশ উৎপাদন কমে যাওয়ায় বিদেশ থেকে মাছ আমদানির প্রয়োজনীয়তা তৈরি হওয়াকে উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এর কারণ খুঁজে বের করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। জাতীয় সম্পদ ও জিআই পণ্য হিসেবে ইলিশের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি উৎপাদন বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নিয়ে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, মৎস্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কর্মকর্তারা অংশ নেন। এছাড়া জেলা প্রশাসন, র্যাব, কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ, বিজিবি, বিমান বাহিনী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির প্রতিনিধিরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সদ্য সংবাদ/এসএস