দীর্ঘ এক দশক পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য অনুমোদিত নতুন বেতন কাঠামোর বাস্তবায়ন নিয়ে অপেক্ষা বাড়ছে। মন্ত্রিসভায় ৯ম জাতীয় পে-স্কেল অনুমোদনের প্রায় দুই সপ্তাহ পার হলেও এখনো এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়নি।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই থেকে বেতন-ভাতা কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। তিন ধাপে এটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি চাকরিজীবীদের পেনশন ৫৫ থেকে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার কথা রয়েছে।
গত ৩১ আগস্ট নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। এরপর দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির সম্ভাবনার কথা জানানো হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, প্রজ্ঞাপনের খসড়া এখনো অর্থ মন্ত্রণালয়ের পর্যায়ে রয়েছে এবং আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং প্রক্রিয়া শেষ হয়নি।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, খসড়ার সারাংশ আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। আগামী বুধবারের মধ্যে আইনগত যাচাই শেষ করা সম্ভব হলে চলতি সেপ্টেম্বরেই গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগলে প্রজ্ঞাপন জারির সময়ও পিছিয়ে যেতে পারে।
এদিকে নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের জন্য ১৭, ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর এই তিনটি তারিখ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে। তবে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষ হওয়ার পরই চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হবে বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গেজেট প্রকাশের নির্দিষ্ট দিন এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কয়েকটি সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে আলোচনা চলছে এবং ভেটিং শেষ হওয়ার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়া নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ দেখা দিলেও সাবেক আমলারা বলছেন, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন জারির আগে একাধিক প্রশাসনিক ও আইনগত ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। তাই এ প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগা অস্বাভাবিক নয়।
এর আগে সর্বশেষ জাতীয় বেতন কাঠামো কার্যকর হয়েছিল ২০১৫ সালে। ওই বছরের ৭ সেপ্টেম্বর অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পায়। পরে প্রায় সাড়ে তিন মাসের ব্যবধানে ১৫ ডিসেম্বর চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল অর্থ মন্ত্রণালয়।
সদ্য সংবাদ/এসএস