জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত নেতার শুনানিসংক্রান্ত নথিপত্রের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৫ কেজি। রায় ঘোষণার আগে এ তথ্য জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মামলার রায় পাঠ শুরুর আগে ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী নথিপত্রের বিশাল পরিমাণের বিষয়টি উল্লেখ করেন। তার সঙ্গে বেঞ্চে ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
রায় ঘোষণার আগে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে দীর্ঘ সময় ও শ্রম দিতে হয়েছে। নথির পরিমাণও ছিল উল্লেখযোগ্য।
তিনি মামলার সঙ্গে যুক্ত প্রসিকিউশন, স্টেট ডিফেন্স, তদন্ত সংস্থা ও সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানান। বিচারপতি বলেন, রায় প্রস্তুত করতে ট্রাইব্যুনালকে যেমন পরিশ্রম করতে হয়েছে, একইভাবে প্রসিকিউশন, সাক্ষী ও তদন্ত কর্মকর্তারাও দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছেন। মামলার খবর সংগ্রহ ও প্রচারে সাংবাদিকদের ভূমিকাও উল্লেখ করেন তিনি।
ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান আরও জানান, মামলার আসামিরা আদালতে উপস্থিত থাকলে পুরো রায় পাঠ করে শোনানোর সুযোগ থাকত। তবে সাত আসামিই পলাতক থাকায় তা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ের আকার এক হাজার পৃষ্ঠারও বেশি হতে পারে।
এদিকে রায় ঘোষণার পর মামলার সাত আসামিকেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এ বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
সদ্য সংবাদ/এসএস