জুলাই গণঅভ্যুত্থানকেন্দ্রিক মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সম্পদের হিসাব নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ট্রাইব্যুনালের রায়ে তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের অর্ধেক বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারিক প্যানেল ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের প্যানেলের অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
রায়ে বলা হয়েছে, ওবায়দুল কাদের, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ এবং মাইনুল হোসেন খান নিখিলের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের অর্ধেক রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হবে। সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
হলফনামায় যত সম্পদের হিসাব
২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৫ আসনে প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় ওবায়দুল কাদের তার মোট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা উল্লেখ করেছিলেন।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, তার হাতে নগদ ছিল ৮০ হাজার টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা অর্থের পরিমাণ ছিল প্রায় ৭৬ লাখ টাকা। সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ ছিল প্রায় দেড় কোটি টাকা।
এ ছাড়া একটি গাড়ির মূল্য ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ২৫ তোলা স্বর্ণের মূল্য দেড় লাখ টাকা, ইলেকট্রনিক সামগ্রী ৯ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং আসবাবপত্রের মূল্য ৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা দেখানো হয়েছিল। এসব মিলিয়ে অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা।
স্থাবর সম্পদের তালিকায় ঢাকার উত্তরায় পাঁচ কাঠা জমির উল্লেখ ছিল। ওই জমির মূল্য হলফনামায় প্রায় ৫১ লাখ টাকা দেখানো হয়। অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদ মিলিয়ে মোট ঘোষিত সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।
বার্ষিক আয়ের হিসাব
নির্বাচনী হলফনামায় ওবায়দুল কাদের বিভিন্ন উৎস থেকে তার বার্ষিক আয়ের তথ্যও উল্লেখ করেছিলেন। বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট, দোকানসহ সম্পত্তির ভাড়া থেকে বছরে আয় দেখানো হয়েছিল ১৪ লাখ ২৪ হাজার ৯২৪ টাকা।
শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত থেকে আয় ছিল ৬ লাখ ৯৭ হাজার ২৮৪ টাকা। পেশাগত আয় হিসেবে ১২ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং বই লেখা থেকে অন্যান্য আয় হিসেবে ৪ লাখ ২৫ হাজার ৩০০ টাকা দেখানো হয়।
মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য হিসেবে পাওয়া সম্মানীর পাশাপাশি লেখালেখি থেকেও আয়ের কথা হলফনামায় উল্লেখ করেছিলেন তিনি।
ট্রাইব্যুনালের আদেশ অনুযায়ী, নির্বাচনী হলফনামায় ঘোষিত প্রায় ৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকার সম্পদের অর্ধেক বাজেয়াপ্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। একই রায়ে তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং জুলাই ফাউন্ডেশন বা সংশ্লিষ্ট কোনো বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সদ্য সংবাদ/এসএস