ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ, তার স্ত্রী নিগার সুলতানা ও শ্যালক শেখ আমিনুর রহমানের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধানে তিনজনের নামে মোট ৮ কোটি ৪ লাখের বেশি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।
দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ মামুন খালেদের নামে ১ কোটি ৯৫ লাখ ৯৭ হাজার ৯৫ টাকা, নিগার সুলতানার নামে ৫৮ লাখ ৭৪ হাজার ৮০৯ টাকা এবং শেখ আমিনুর রহমানের নামে ৫ কোটি ৪৯ লাখ ৮৭ হাজার ৮৫৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে।
দুদক সূত্র জানায়, শেখ মামুন খালেদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে শেয়ার ব্যবসা পরিচালনা, ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ এবং নিজের, স্ত্রী, শ্যালকসহ পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান করা হয়।
অনুসন্ধানের সময় তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পাশাপাশি পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয়ের হিসাবও যাচাই করা হয়েছে। দুদকের হিসাব অনুযায়ী, তার নামে থাকা সম্পদের সঙ্গে গ্রহণযোগ্য আয়ের সামঞ্জস্য পাওয়া যায়নি। এতে ১ কোটি ৯৫ লাখ ৯৭ হাজার ৯৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ শনাক্ত হয়। এ অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে কমিশন।
একই অনুসন্ধানের আওতায় নিগার সুলতানার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ এবং তার গ্রহণযোগ্য আয় ও ব্যয়ের হিসাব পর্যালোচনা করা হয়। এতে তার নামে ৫৮ লাখ ৭৪ হাজার ৮০৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ পাওয়া যায়।
দুদকের নথিতে বলা হয়েছে, নিগার সুলতানার আয়কর নথিতে মৎস্য চাষ থেকে যে আয় দেখানো হয়েছিল, তার একটি অংশ অনুসন্ধানে গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার রেকর্ডপত্র যাচাই ও পরিদর্শন প্রতিবেদনে ওই মৎস্য চাষের আয়কে ‘ভিত্তিহীন’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ২০২৩-২৪ করবর্ষে নিগার সুলতানার প্রদর্শিত আরও কিছু আয়ের বৈধ উৎসের তথ্য পাওয়া যায়নি। এসব আয় বাদ দিয়ে তার গ্রহণযোগ্য আয়, ব্যয় ও সম্পদের হিসাব করা হয়। পরে তার নামে ৫৮ লাখ ৭৪ হাজার ৮০৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ পাওয়ার তথ্য উঠে আসে।
অন্যদিকে শেখ আমিনুর রহমানের নামে ১০ কোটি ৪২ লাখ ৯ হাজার ১২৩ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুদক। এর বিপরীতে তার গ্রহণযোগ্য আয় হিসেবে ৫ কোটি ৭৭ লাখ ৩৭ হাজার ৪৭৮ টাকা বিবেচনা করা হয়েছে।
অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়, আমিনুর রহমানের আয়কর নথিতে মৎস্য চাষ থেকে ৬ কোটি ৮ লাখ ১৪ হাজার ৮৮৪ টাকা আয় দেখানো হয়েছিল। তবে দুদকের যাচাই ও পরিদর্শন প্রতিবেদনে ওই আয়কে ‘ভিত্তিহীন’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি পূর্ববর্তী সঞ্চয় হিসেবে দেখানো ১ কোটি ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৩৯০ টাকারও কোনো রেকর্ডপত্র পাওয়া যায়নি। ফলে ওই অর্থ তার গ্রহণযোগ্য আয়ের হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
দুদকের হিসাব অনুযায়ী, শেখ আমিনুর রহমানের পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয়ের পরিমাণ ২ কোটি ৪২ লাখ ৪ হাজার ৬১৬ টাকা। সব হিসাব পর্যালোচনার পর তার নামে ৫ কোটি ৪৯ লাখ ৮৭ হাজার ৮৫৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ পাওয়া যায়। এ অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় তার বিরুদ্ধেও মামলা করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধানে তিনজনের বিরুদ্ধেই জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় পৃথক তিনটি মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। এসব মামলায় দুদকের সহকারী পরিচালক পিয়াস পালকে বাদী হিসেবে অনুমোদন করা হয়েছে। সূত্র: কালবেলা
সদ্য সংবাদ/ এআর