রাজধানীর খিলক্ষেতে স্ত্রীকে খাটের সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে বেল্ট দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। নির্যাতনের একটি ভিডিও স্বজনদের কাছে পাঠানোর তিন দিন পর ওই নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, নির্যাতনের পর তাকে হত্যা করে মরদেহ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
নিহত মুক্তা ইসলাম মাওয়া (২৫) খিলক্ষেতের ৫ নম্বর সড়কের একটি বাসায় স্বামী সোহেল শিকদারের (৩১) সঙ্গে থাকতেন। তাদের পাঁচ ও চার বছর বয়সী দুই সন্তান রয়েছে।
পরিবার ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ আগস্ট মুক্তাকে খাটের সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে বেল্ট দিয়ে মারধর করেন সোহেল। এ সময় নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করেন তিনি। প্রায় তিন মিনিটের ওই ভিডিওতে মুক্তাকে বারবার ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করতে শোনা যায়। একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘আমি কিছু করিনি, আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।’ এরপরও তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
নির্যাতনের সময় পাশের কক্ষে থাকা দুই সন্তান কান্নাকাটি করছিল। তখন মুক্তা স্বামীকে অনুরোধ করে বলেন, তাকে মারধর করা হলেও যেন আগে দুই সন্তানকে ঘুম পাড়িয়ে আসতে দেওয়া হয়। তবে পরিবারের অভিযোগ, এতেও সোহেলের মন গলেনি।
ভিডিওতে মুক্তাকে শিকল দিয়ে আটকে রাখা অবস্থায় দেখা যায় এবং তার শরীরে আঘাতের চিহ্নও রয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। ভিডিওটি পরে মুক্তার এক স্বজনের মোবাইল ফোনে পাঠান সোহেল। সেখানে তিনি মুক্তাকে নিয়ে যাওয়ার কথাও জানান।
এরপর স্বজনরা খিলক্ষেতের বাসা থেকে মুক্তাকে নিয়ে যেতে গেলে তাকে জীবিত পাননি। গত বৃহস্পতিবার সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ দেখতে পান তারা।
এ ঘটনায় মুক্তার ছোট ভাই তানভীর রহমান বাদী হয়ে গত শুক্রবার খিলক্ষেত থানায় মামলা করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের সন্দেহ এবং যৌতুকের কারণে দীর্ঘদিন ধরে মুক্তার ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন সোহেল।
তানভীর রহমানের অভিযোগ, কয়েক মাস আগে তার কাছে তিন লাখ টাকা দাবি করেছিলেন সোহেল। টাকা দিতে দেরি হওয়ায় তার বোনকে মারধর করা হতো। সর্বশেষ ৩০ আগস্ট নির্যাতনের পর মুক্তা অসুস্থ হয়ে পড়েন।
নিহতের পরিবারের আরও অভিযোগ, সোহেল নির্যাতনের পর মুক্তাকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রেখে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেছেন।
তবে পুলিশ বলছে, মুক্তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মাদ সোহরাব আল হোসাইন জানান, মুক্তাকে মারধরের যে ভিডিও পাওয়া গেছে, সেটি তার মৃত্যুর তিন দিন আগের। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এ ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি সোহেল শিকদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কেউ আছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এদিকে মাকে হারিয়ে মুক্তার দুই শিশু সন্তান সারাক্ষণ কান্নাকাটি করছে বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। তাদের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
সদ্য সংবাদ/এসকে