দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে জাতীয় সংসদে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিং এবং জ্বালানি ঘাটতির প্রভাব জনজীবনের পাশাপাশি শিল্প উৎপাদনেও পড়ছে বলে সংসদে উদ্বেগ জানানো হয়েছে। সংকটের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হতে পারেননি ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের ওপর আলোচনা চলাকালে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান।
অধিবেশন শুরু হয় বিকেল ৩টায়। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে বৈঠক শুরুর পর একপর্যায়ে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সভাপতির দায়িত্ব নেন।
এ সময় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সংসদে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা। আলোচনায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি, গ্যাস সংকট এবং এর ফলে শিল্প খাতে তৈরি হওয়া সমস্যার বিষয়গুলো উঠে আসে।
আলোচনা শেষে বিদ্যুৎমন্ত্রীর উদ্দেশে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেভাবে সাবমিসিভ ওয়েতে বিষয়টি একনলেজ করেন এবং দুঃখ প্রকাশ করেন, আনফরচুনেটলি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ বিষয়টিকে সেভাবে এড্রেস করেন না। প্রধানমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করেন, আর মাননীয় মন্ত্রীর কাছ থেকে শুনি তার লম্বা এ কারণে বিদ্যুৎ চলে গেছে।’
মন্ত্রীর বক্তব্যের একটি অংশের প্রসঙ্গ টেনে ডেপুটি স্পিকার বলেন, বিদ্যুৎ না থাকার কারণ হিসেবে এমন কিছু ব্যাখ্যা সামনে আসছে, যা সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে নাও হতে পারে।
তিনি বলেন, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়ে জনগণের সামনে প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট করা প্রয়োজন। সংকটের কারণ ও সরকারের করণীয় সম্পর্কে দায়িত্বশীলদের আরও পরিষ্কার এবং বাস্তবভিত্তিক বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সংসদে আলোচনার শুরুতে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতির অবনতির বিষয়টি তুলে ধরেন। তার দাবি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানির পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়মিত দীর্ঘ সময় লোডশেডিং হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিল্প-কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম সীমিত করতে বাধ্য হচ্ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিতে।
এ পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ সংসদে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরার দাবি জানান তিনি।
গত ২৭ আগস্ট এ বিষয়ে একটি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশ দেন বিরোধীদলীয় নেতা। নোটিশটিতে তার সঙ্গে আরও পাঁচজন সংসদ সদস্য স্বাক্ষর করেন।
সদ্য সংবাদ/এসএস