টাকা উদ্ধারের নামে অনেক ক্ষেত্রে মানুষের ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভুঁইয়া। বুধবার রাতে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে মানুষ ট্রেনের ছাদে করেও নিজ নিজ এলাকায় ফিরেছেন। এ জন্য তিনি গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহত পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তবে নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, মিডিয়া থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের প্রশাসন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছে না। তার অভিযোগ, গণমাধ্যমের একটি অংশ একপাক্ষিক আচরণ করছে এবং একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর পক্ষে কাজ করছে। মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকদের পাঠানো সব সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে না বলেও তিনি দাবি করেন। এ অবস্থায় তিনি গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখপাত্র আরও বলেন, জুডিশিয়াল মেজিস্ট্রেটদের জন্য পর্যাপ্ত গাড়ি দেওয়া হচ্ছে না এবং তাদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যও দেওয়া হচ্ছে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সুষ্ঠু ভোট আয়োজনের ক্ষেত্রে তাদের অসহযোগিতা করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত লজিস্টিক সাপোর্ট না দিলে তা নির্দিষ্ট একটি দলের সঙ্গে যোগসাজশের ইঙ্গিত দেবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, এনসিপির পোলিং এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রে যেতে হুমকি ও বাধা দেওয়া হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ল্যাপটপ বাসায় রাখা কি অপরাধ? তার দাবি, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের ‘ফ্রেমিং’ করার চেষ্টা চলছে। তবে ভোট কেনাবেচার উদ্দেশ্যে অর্থ লেনদেন হলে তা অবশ্যই অপরাধ—এ কথা তিনি স্পষ্ট করে বলেন।
যৌথবাহিনীর অভিযানে বিভিন্ন স্থানে অস্ত্রের মজুদ উদ্ধারের ঘটনাকে স্বাগত জানিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, একাধিক জায়গায় অস্ত্র উদ্ধার করায় যৌথবাহিনীর প্রতি তারা কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, যেখানে বিএনপি দুর্বল অবস্থানে রয়েছে, সেখানে ভোট বানচালের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে তারা তথ্য পেয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, লক্ষ্মীপুরে বিএনপির প্রার্থী এনি চৌধুরীর নির্বাচনী গাড়ি থেকে সেনাবাহিনী ৮০ লাখ টাকা উদ্ধার করেছে।
সবশেষে তিনি বলেন, মানুষ যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিয়ে কেন্দ্র থেকে নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারেন, সে জন্য দলমত নির্বিশেষে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।