যুদ্ধবিরতির মধ্যেও হরমুজ প্রণালিতে দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে, বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এসব হামলার জন্য তেহরানকে দায়ী করছে ওয়াশিংটন ও তার মিত্ররা।
এদিকে যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সামরিক অবকাঠামোর বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছিল বলে তেহরান স্বীকার করেছে। তবে সাম্প্রতিক মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে উঠে এসেছে, প্রত্যাশার তুলনায় অনেক দ্রুতগতিতে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করছে ইরান।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, লঞ্চার ও অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র দ্রুত পুনর্নির্মাণ করছে ইরান। একাধিক গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আবারও অস্ত্র উৎপাদন ও প্রতিরক্ষা অবকাঠামো সচল করার পথে অনেক দূর এগিয়েছে দেশটি।
বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানের এই তৎপরতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ভবিষ্যৎ সংঘাতের আশঙ্কা মাথায় রেখেই দীর্ঘমেয়াদি সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে ইরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সেই দাবিও প্রশ্নের মুখে পড়ছে, যেখানে বলা হয়েছিল হামলার মাধ্যমে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দীর্ঘ সময়ের জন্য দুর্বল হয়ে পড়বে।
মার্কিন এক কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরান তাদের ড্রোন হামলার সক্ষমতা মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই পুরোপুরি পুনরুদ্ধার করতে পারে বলে ধারণা করছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এছাড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন প্রযুক্তি এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বড় একটি অংশ এখনো কার্যকর রয়েছে বলে মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্রগুলোর দাবি, রাশিয়া ও চীনের সহায়তা এবং হামলায় প্রত্যাশিত মাত্রায় ক্ষতি না হওয়ায় ইরান দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে। যদিও চীন সরাসরি সামরিক সহায়তার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
গত সপ্তাহে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেন, চীন ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির যন্ত্রাংশ সরবরাহ করছে। তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন সংবাদ সম্মেলনে সেই অভিযোগ নাকচ করে দেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে ইরান একেবারে শূন্য থেকে সামরিক সক্ষমতা গড়ে তুলছে না। বরং বিদ্যমান প্রযুক্তি, অবকাঠামো এবং অবশিষ্ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করেই তারা দ্রুত পুনর্গঠনের পথে এগোচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর জন্য ইরান আবারও বড় ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।