পুলিশের জন্য ৫ হাজার ৮৩০টি গাড়ি কিনবে সরকার

স
সদ্য সংবাদ ডেস্ক
২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:০৩:৪৫
ছবি: সংগৃহীত

দেশজুড়ে পুলিশের পরিবহন সংকট কাটাতে ৫ হাজার ৮৩০টি নতুন গাড়ি কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ হাজার ৬০৯ কোটি টাকার বেশি। নিয়মিত টহল, অপরাধ দমন, তদন্ত ও জরুরি সেবা কার্যক্রম গতিশীল করার পাশাপাশি বিশেষায়িত অভিযানে পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোও এ উদ্যোগের লক্ষ্য।

পুলিশ সদর দপ্তর ও পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে পুলিশের বহু গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিবহন সংকট আরও প্রকট হয়েছে। ওই সময়ে পুলিশের ১ হাজার ৭৪টি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে ৪৫৫টি গাড়ি সম্পূর্ণ পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য।

পরিকল্পনা কমিশনের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, দেশের ৬৩৯টি থানায় বর্তমানে মোট ১ হাজার ২৩৭টি গাড়ি রয়েছে। এসব গাড়ির ৬৪ শতাংশের বয়স ১০ বছরের বেশি। পুরোনো ও অপর্যাপ্ত যানবাহনের কারণে নিয়মিত টহল, অপরাধ তদন্ত এবং জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে পুলিশকে।

দুটি প্রকল্পে কেনা হবে ৫ হাজার ৮৩০টি গাড়ি

প্রস্তাবিত গাড়ি কেনার কার্যক্রম দুটি প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৮২৯টি সাধারণ কার্যক্রমে ব্যবহারের উপযোগী বা অপারেশনাল গাড়ি কিনতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৩২৮ কোটি ৯২ লাখ টাকার বেশি। আর ১ হাজার ১টি বিশেষায়িত গাড়ি কিনতে প্রস্তাব করা হয়েছে ২ হাজার ২৮০ কোটি ১৪ লাখ টাকার বেশি।

পরিকল্পনা বিভাগের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রকল্প দুটি ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের কথা রয়েছে। অনুমোদন পেলে ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্প দুটির ব্যয় সরকার বহন করবে।

থানায় গাড়ির সংকট, ব্যাহত হচ্ছে টহল

প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, একটি থানার অধীনে সাধারণত একাধিক ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড থাকে। এসব এলাকায় একযোগে টহল ও পুলিশি কার্যক্রম চালাতে প্রতিটি থানায় অন্তত চার থেকে পাঁচটি পিকআপ বা টহল গাড়ি প্রয়োজন হতে পারে। জনবহুল ও অপরাধপ্রবণ এলাকায় প্রয়োজন আরও বেশি।

কিন্তু অনেক থানায় মাত্র একটি বা দুটি গাড়ি থাকায় একটি দল অভিযানে বের হলে অন্য এলাকায় পর্যাপ্ত টহল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এতে অপরাধের খবর পেয়ে দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং জরুরি পুলিশি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়।

পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) কামারুম মুনিরা জানান, মূলত পরিবহন সংকট দূর করা এবং পুলিশের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার লক্ষ্যেই গাড়ি কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে বাহিনীর যানবাহনের প্রয়োজনীয়তা পুনর্মূল্যায়ন করে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও গাড়ির জন্য আবেদন করা হতে পারে।

বিশেষায়িত গাড়িতে বাড়বে অভিযানের সক্ষমতা

সাধারণ টহল ও অপরাধ দমনের পাশাপাশি সংঘাত নিয়ন্ত্রণ, দুর্গম এলাকায় অভিযান এবং অপরাধের আলামত সংগ্রহের সক্ষমতা বাড়াতে বিশেষায়িত যানবাহন কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রস্তাবনা অনুযায়ী, দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত রায়ট কার জনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহায়তা করবে। দুর্গম এলাকায় চলাচলের জন্য কেনা হবে অল-টেরেইন ভেহিকেল। মোবাইল কমান্ড সেন্টার অস্থায়ী নিয়ন্ত্রণকক্ষ হিসেবে কাজ করবে, যা অভিযান পর্যবেক্ষণ ও বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে সহায়ক হবে।

এ ছাড়া অপরাধস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ ও তদন্তের কাজে সহায়তা করতে কেনা হবে ক্রাইম সিন ভ্যান। নদীমাতৃক এলাকায় টহল, উদ্ধার অভিযান ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় জলযান কেনার প্রয়োজনীয়তার কথাও প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

জাতীয় নির্বাচন কিংবা বড় ধরনের কোনো আয়োজনের সময় দেশজুড়ে একযোগে পুলিশ মোতায়েনের প্রয়োজন হয়। এমন পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত যানবাহন পুলিশের কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়ক হবে বলেও প্রকল্প প্রস্তাবনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রশিক্ষণেও বরাদ্দ

প্রস্তাবিত অপারেশনাল যানবাহন প্রকল্পে গাড়ি মেরামতের সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি কেনার জন্য ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি ৬৫০ জন হালকা যানবাহনের চালক এবং ৩০০ জন ভারী যানবাহনের চালককে ড্রাইভিং ও মেকানিক্যাল প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। এ ছাড়া আরও ৫০ জনকে মেকানিক্যাল প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পের আওতায় ৯১০ জনকে ড্রাইভিং ও মেকানিক্যাল প্রশিক্ষণ এবং আরও ৫০ জনকে মেকানিক্যাল প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

নথিপত্রে বাংলাদেশ পুলিশের ৬৩৯টি প্রশাসনিক থানার পাশাপাশি ২৪টি রেলওয়ে থানা ও ৭৩টি হাইওয়ে থানার তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্যয় ও রক্ষণাবেক্ষণে গুরুত্ব পরিকল্পনা কমিশনের

গত ১৫ অক্টোবর পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি প্রস্তাবিত প্রকল্প দুটি পর্যালোচনা করে। এ সময় প্রকল্পের ব্যয় প্রাক্কলন যথাযথভাবে নির্ধারণ, সরকারি ক্রয়বিধি অনুসরণ এবং কেনা গাড়িগুলোর দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার বিষয়ে সুপারিশ করা হয়।

প্রকল্প দুটি অনুমোদন ও বাস্তবায়িত হলে পুলিশের নিয়মিত টহল, অপরাধবিরোধী অভিযান, তদন্ত এবং জরুরি সেবা প্রদানের সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে প্রকল্পের চূড়ান্ত ব্যয়, গাড়ির ধরন ও সংখ্যা একনেকের অনুমোদন এবং পরবর্তী ক্রয়প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।

সদ্য সংবাদ/এসকে

জাতীয় ব্রেকিং

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. প্রধানমন্ত্রীর এক ক্লিকেই ১২ কোটি টাকা পেলেন ৩৮ হাজার ৯৭০ আখচাষি সদ্য. রংপুরের ধর্মসভা মন্দিরে ১০ লাখ টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী সদ্য. ১৪ বছর নির্মাণকাজ চলার পর বিআরটি প্রকল্পে ইতি, রূপান্তর হচ্ছে সাধারণ মহাসড়কে সদ্য. পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজির বাসভবনে ডিবির মাদকবিরোধী অভিযান সদ্য. রংপুর সফর শেষে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী সদ্য. সবাইকে সঙ্গে নিয়েই গড়ে তোলা হবে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী সদ্য. অর্থপাচার মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি দিলীপ আগরওয়ালা ১ দিনের রিমান্ডে সদ্য. পুলিশের জন্য ৫ হাজার ৮৩০টি গাড়ি কিনবে সরকার সদ্য. গ্রামেও এলপিজির দাপট, দামে নাকাল গ্রাহক সদ্য. পূজার ছুটিতে ফাঁকা রাজধানী ঢাকা সদ্য. প্রধানমন্ত্রীর এক ক্লিকেই ১২ কোটি টাকা পেলেন ৩৮ হাজার ৯৭০ আখচাষি সদ্য. রংপুরের ধর্মসভা মন্দিরে ১০ লাখ টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী সদ্য. ১৪ বছর নির্মাণকাজ চলার পর বিআরটি প্রকল্পে ইতি, রূপান্তর হচ্ছে সাধারণ মহাসড়কে সদ্য. পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজির বাসভবনে ডিবির মাদকবিরোধী অভিযান সদ্য. রংপুর সফর শেষে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী সদ্য. সবাইকে সঙ্গে নিয়েই গড়ে তোলা হবে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী সদ্য. অর্থপাচার মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি দিলীপ আগরওয়ালা ১ দিনের রিমান্ডে সদ্য. পুলিশের জন্য ৫ হাজার ৮৩০টি গাড়ি কিনবে সরকার সদ্য. গ্রামেও এলপিজির দাপট, দামে নাকাল গ্রাহক সদ্য. পূজার ছুটিতে ফাঁকা রাজধানী ঢাকা