চোরাচালানের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও হীরা কেনাবেচা এবং অর্থপাচারের অভিযোগে করা মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে এক দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। এ মামলায় তাঁর তিন দিনের রিমান্ড চেয়েছিল পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে আসামিপক্ষের জামিন আবেদনও নাকচ করা হয়।
আদালতে দিলীপ কুমার আগরওয়ালার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আনোয়ারুল কবির বাবুল। তিনি রিমান্ড আবেদনের বিরোধিতা করেন এবং জামিন চান। দুর্গাপূজার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আসামির জামিনের আবেদন জানান তিনি।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন আসামিকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। তাঁর অভিযোগ, দিলীপ কুমার আগরওয়ালা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং অর্থপাচারের মাধ্যমে অবৈধভাবে স্বর্ণালংকার দেশে আনতেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে রাষ্ট্রপক্ষ জানায়।
শুনানি শেষে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
৬৭৮ কোটি টাকার স্বর্ণ ও হীরা কেনাবেচার তথ্য
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০০৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে রাজধানীর গুলশান অ্যাভিনিউয়ে অবস্থিত ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের শোরুম ও কার্যালয়কে কেন্দ্র করে কথিত অপরাধগুলো সংঘটিত হয়েছে।
সিআইডির অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি বৈধ ঋণপত্রের (এলসি) মাধ্যমে বিদেশ থেকে ৩৮ কোটি ৪৭ লাখ ৪৮ হাজার ১১ টাকা ৫২ পয়সার স্বর্ণবার, স্বর্ণালংকার ও হীরা আমদানি করেছিল। তবে একই সময়ে দেশের স্থানীয় বাজার থেকে ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ ১৪ হাজার ১৪ টাকার স্বর্ণ ও হীরা কেনা, বিনিময় বা রূপান্তরের তথ্য পাওয়া গেছে বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, স্থানীয় বাজার থেকে কেনা এসব স্বর্ণ ও হীরার উৎস সম্পর্কে প্রয়োজনীয় বৈধ নথিপত্র উপস্থাপন করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড ও ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডকে ব্যবহার করে চোরাচালানের মাধ্যমে অবৈধ স্বর্ণ ও হীরা কেনাবেচার মধ্য দিয়ে অর্থ উপার্জন করা হয়েছে বলেও এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে দিলীপ কুমার আগরওয়ালার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা যাবে।
আগে গ্রেপ্তার, পরে কারামুক্তি
এর আগে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরে তাঁকে বিভিন্ন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এসব মামলায় জামিন পাওয়ার পর ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।
এবার স্বর্ণ ও হীরা কেনাবেচা এবং অর্থপাচারের অভিযোগে করা মামলায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি পেল সিআইডি। মামলার অভিযোগগুলো তদন্তাধীন; আদালতের চূড়ান্ত রায়ের আগে এগুলো প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে বিবেচিত নয়।
সদ্য সংবাদ/এসকে