নাটোরের বনপাড়ায় যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় আটজনের পরিচয় শনাক্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩২ জন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রাণহানির সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সোমবার (২০ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নাটোর-পাবনা মহাসড়কে বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান নয়জন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক আরও পাঁচজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
শনাক্ত হওয়া নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার জাজিরা গ্রামের আরব আলীর ছেলে সামাদ ফকির (৭০), কাজিরহাট গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে সোহাগ হোসেন (৩০), বড়কান্দি গ্রামের জহুর উদ্দিনের ছেলে জুয়েল রানা (৪০), ডুবিসাহেবের গ্রামের জাহান উদ্দিন মোল্লার আত্মীয় শালাল মোল্লা (৪৫) এবং কাজিরহাট গ্রামের শাহিন হোসেন (২৫)।
এ ছাড়া নিহত হয়েছেন রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ফরহাদপুর গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে ও বাসচালক সোহেল রানা (৪০), বাগমারা উপজেলার কনোপাড়া গ্রামের বাবর আলীর ছেলে আনোয়ার হক (৩০) এবং পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী গ্রামের মৃত শহিদুল ইসলামের মেয়ে তাছফিয়া খাতুন (৮)।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, আরপি পরিবহনের বাসটি বরগুনা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্দেশে যাচ্ছিল। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে বাসটির সংঘর্ষ হয়। এতে বাসের যাত্রীদের মধ্যে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার পর উদ্ধার করা মরদেহগুলো বনপাড়া হাইওয়ে থানায় রাখা হয়েছে। স্বজনদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে, আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন নাটোর সদর হাসপাতাল এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে জেলা প্রশাসনের গঠিত সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি কাজ করবে। পাশাপাশি নিহত ও আহতদের পরিচয় শনাক্ত এবং তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের কার্যক্রম চলছে।
সদ্য সংবাদ/এসকে