মরুভূমিতে চীনের কৌশলগত সামরিক অবকাঠামো, টার্গেট যুক্তরাষ্ট্র?

A
Admin
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৩৭:৩২
চীনের প্রত্যন্ত এক মরুভূমি অঞ্চলে বিশাল আকারের একটি সামরিক কমপ্লেক্স গড়ে উঠছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এটি এমনভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে যাতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য প্রথম আঘাত চীনের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করতে না পারে এবং বেইজিংয়ের পাল্টা আঘাতের সক্ষমতা নিশ্চিতভাবে বজায় থাকে।

চীনের পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো শহরে আঘাত হানতে সক্ষম বলে ধারণা করা হয়। তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বিশ্লেষিত স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, বেইজিং তার দীর্ঘ-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত বিচ্ছিন্ন সাইলো ঘাঁটিগুলোর আশপাশে বিস্তৃত লঞ্চ প্যাড, ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার এবং যোগাযোগ কেন্দ্রের সমন্বয়ে একটি জটিল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে।

উত্তর-পশ্চিম চীনের হামি পারমাণবিক সাইলো ক্ষেত্রের কাছে ইতিমধ্যে ৮০টিরও বেশি উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং তিনটি অষ্টভুজ আকৃতির স্থাপনা নির্মিত হয়েছে বলে স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে। সেখানে কংক্রিট নির্মিত বহু প্ল্যাটফর্ম রয়েছে, যেগুলো মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ও বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিটের জন্য ব্যবহৃত হতে পারে।

একই সঙ্গে এমন কিছু স্থাপনার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, যেগুলো ইলেকট্রনিক যুদ্ধ, স্যাটেলাইট যোগাযোগ এবং কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কাজে ব্যবহৃত হতে পারে বলে তিনজন নিরাপত্তা বিশ্লেষক রয়টার্সকে জানিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্মাণের ব্যাপ্তি চীনের স্থলভিত্তিক পারমাণবিক বাহিনীকে আরও সুরক্ষিত ও সমন্বিতভাবে পরিচালনার সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। এটি বেইজিংয়ের ‘দ্বিতীয় আঘাত’ দেওয়ার সক্ষমতা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করে তুলছে—বিশেষ করে তাইওয়ান ইস্যুতে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে।

হাওয়াইভিত্তিক প্যাসিফিক ফোরাম থিঙ্ক ট্যাঙ্কের সহযোগী ফেলো আলেকজান্ডার নিল বলেন, “এই অবকাঠামো যে বিশাল পরিসরে নির্মিত হচ্ছে তা স্পষ্ট। এটি সাইলো ক্ষেত্রের বাইরেও হাজার হাজার বর্গকিলোমিটার মরুভূমিজুড়ে বিস্তৃত।”

তিনি আরও বলেন, এটি চীনের কৌশলগত পারমাণবিক প্রতিরোধ সক্ষমতার বড় ধরনের সম্প্রসারণ এবং বৈচিত্র্যের ইঙ্গিত দেয়।

চীনের সামরিক নীতিতে পারমাণবিক সাইলো সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটি সাধারণত ন্যূনতম কিন্তু বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধ কৌশল অনুসরণ করে, যার মূল ভিত্তি হলো প্রথম আঘাতের পর পাল্টা আঘাতের সক্ষমতা বজায় রাখা।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি সাবমেরিন ও বিমান থেকেও পারমাণবিক অস্ত্র উৎক্ষেপণ করতে পারে। তবে শিনজিয়াং ও গানসু অঞ্চলের সাইলো ঘাঁটিগুলোই তাদের পারমাণবিক শক্তির মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।

কিছু পশ্চিমা কূটনীতিক ও বিশ্লেষকের মতে, তাইওয়ান ইস্যুতে সংঘাত সৃষ্টি হলে চীন পারমাণবিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ সীমিত করার কৌশল নিতে পারে।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছেন, তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে দুই দেশের বিরোধ ভুলভাবে পরিচালিত হলে তা বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। তবে তাইওয়ান দীর্ঘদিন ধরে চীনের সার্বভৌমত্ব দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগনও গোয়েন্দা সংক্রান্ত বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

নতুন প্রতিরক্ষা কাঠামোর কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দুটি অষ্টভুজ আকৃতির স্থাপনা গত ছয় বছরে শিনজিয়াংয়ের পূর্বাঞ্চলে নির্মিত হয়েছে, যা হামি সাইলো ক্ষেত্রের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। এসব স্থাপনায় সামরিক আবাসন, বড় যানবাহন রাখার অবকাঠামো এবং সংরক্ষণ সুবিধা রয়েছে।

চারপাশে সাঁজোয়া বাঙ্কার, অস্ত্রাগার, বিমানঘাঁটি ও রেল সংযোগের উপস্থিতিও স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, যা হামি সাইলো এলাকার সঙ্গে সংযুক্ত। সাম্প্রতিক সময়ে ওই অঞ্চলে সামরিক মহড়া, বড় যানবাহনের চলাচল এবং ছদ্মবেশী লঞ্চ সাইটের কার্যক্রমও লক্ষ্য করা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কংক্রিট প্যাড এবং অষ্টভুজ স্থাপনাগুলোর মধ্যে ভূগর্ভস্থ রাস্তা ও যোগাযোগ নেটওয়ার্ক রয়েছে, যেখানে ফাইবার অপটিক সংযোগ থাকতে পারে।

কার্নেগি এনডাওমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের সিনিয়র ফেলো টং ঝাও বলেন, এসব স্থাপনা সম্ভবত কমান্ড, কন্ট্রোল ও কমিউনিকেশন ব্যবস্থার অংশ, যা হামি সাইলো এলাকার পারমাণবিক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত।

বিশ্লেষকদের মতে, এই অবকাঠামো চীনকে বৈশ্বিক পারমাণবিক শক্তির ভারসাম্যে একটি স্বতন্ত্র অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার তুলনায় চীনের অস্ত্রভাণ্ডার তুলনামূলক ছোট হলেও তারা সাইলোভিত্তিক সুরক্ষা ও কঠিন প্রতিরক্ষা কাঠামোর ওপর বেশি নির্ভর করছে।

পারমাণবিক বিশ্লেষক হ্যান্স ক্রিস্টেনসেন বলেন, এই বিশাল অবকাঠামোর প্রকৃত ব্যবহার সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া কঠিন, তবে কোনো সম্ভাবনাই উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তিনি এটিকে “অভূতপূর্ব একটি প্রচেষ্টা” হিসেবে অভিহিত করেন।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. রোহিঙ্গাদের ন্যায়বিচার ও মর্যাদার গল্পের সূচনা হোক এখনই: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সদ্য. ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: রোববার থেকে শুরু পোস্টাল ভোটের নিবন্ধন সদ্য. প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক সদ্য. রাজধানী থেকে গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি সদ্য. একসঙ্গে পুলিশের ৭ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি সদ্য. জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশন ঘিরে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী সদ্য. চাপের কাছে মাথা নত করবে না ইরান: জাতিসংঘে পেজেশকিয়ান সদ্য. চবি ভিসির প্রথম নিয়োগে ১২ জনের ৮ জনই নিজ গ্রামের, বাকি ৪ জন উপজেলার সদ্য. বারিধারায় গাড়িচাপা: মামলায় নাম নেই গতকাল আটক সেই কিশোরের সদ্য. সরকারি সব কলেজের উদ্দেশে মাউশির জরুরি নির্দেশনা সদ্য. রোহিঙ্গাদের ন্যায়বিচার ও মর্যাদার গল্পের সূচনা হোক এখনই: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সদ্য. ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: রোববার থেকে শুরু পোস্টাল ভোটের নিবন্ধন সদ্য. প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক সদ্য. রাজধানী থেকে গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি সদ্য. একসঙ্গে পুলিশের ৭ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি সদ্য. জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশন ঘিরে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী সদ্য. চাপের কাছে মাথা নত করবে না ইরান: জাতিসংঘে পেজেশকিয়ান সদ্য. চবি ভিসির প্রথম নিয়োগে ১২ জনের ৮ জনই নিজ গ্রামের, বাকি ৪ জন উপজেলার সদ্য. বারিধারায় গাড়িচাপা: মামলায় নাম নেই গতকাল আটক সেই কিশোরের সদ্য. সরকারি সব কলেজের উদ্দেশে মাউশির জরুরি নির্দেশনা