ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল্লাহ মণ্ডলের বাড়ি থেকে সরকারি বরাদ্দের ৮ বস্তা সার ও ২২ প্যাকেট ধানবীজ উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামে স্থানীয়রা আব্দুল্লাহ মণ্ডলের বাড়িতে সরকারি কৃষি উপকরণ দেখতে পান। পরে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তার উপস্থিতিতে সেগুলো তালিকা অনুযায়ী প্রকৃত কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি বরাদ্দের সার ও ধানবীজ নির্ধারিত বিতরণস্থলে না এনে নিজের বাড়িতে নিয়ে রাখা হয়েছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী সেখানে উপস্থিত হয়ে কৃষি বিভাগকে বিষয়টি জানান।
মির্জাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরিদ মালিথা বলেন, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতির বাড়িতে সরকারি বরাদ্দের সার ও ধানবীজ কীভাবে এল, তা তার জানা নেই। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত স্থান থেকেই কৃষকদের মধ্যে এসব উপকরণ বিতরণ হওয়ার কথা। খবর পেয়ে তারা সেখানে যান। পরে কৃষি কর্মকর্তাকে জানানো হলে তিনি উপস্থিত হয়ে সার ও ধানবীজ বিতরণ করেন। তিনি আরও বলেন, এর আগেও সরকারি কম্বল ও শাড়ি বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল।
থানা কৃষক দলের সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেনের দাবি, আব্দুল্লাহ মণ্ডল অতীতেও সরকারি বরাদ্দের বিভিন্ন উপকরণ নিজের বাড়িতে এনে রাখতেন। অভিযোগ রয়েছে, কিছু বিতরণের পর অবশিষ্ট উপকরণ বিক্রি করে দেওয়া হতো। এবার খবর পেয়ে তারা গিয়ে সার ও ধানবীজ উদ্ধার করেন। পরে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা এসে সেগুলো কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করেন।
ভ্যানচালক জাহিদ হোসেন জানান, সোমবার তাকে উপজেলা থেকে সার আনার জন্য ভাড়া করা হয়। সেখানে লিটন নামে এক ব্যক্তি একটি কার্ডের মাধ্যমে ৮ বস্তা সার, ২২ প্যাকেট ধানবীজ ও কিছু গাছের চারা তার কাছে বুঝিয়ে দেন। পরে তিনি সেগুলো আব্দুল্লাহ মণ্ডলের বাড়িতে পৌঁছে দেন।
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল্লাহ মণ্ডল বলেন, সোমবার উপজেলা থেকে ৮ বস্তা সার ও ২২ প্যাকেট ধানবীজ এনে বাড়িতে রাখা হয়েছিল। বৃষ্টির কারণে সেদিন বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার সকালে ব্লক সুপারভাইজারের উপস্থিতিতে তার তত্ত্বাবধানে কৃষকদের মধ্যে বিতরণ শুরু হয় এবং দিনের মধ্যেই সব উপকরণ বিতরণের আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মির্জাপুর ইউনিয়নের ব্লক সুপারভাইজার সাকিব হোসেন বলেন, খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি সরকারি বরাদ্দের ৮ বস্তা সার ও ২২ প্যাকেট ধানবীজ তালিকা অনুযায়ী প্রকৃত কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করেন।
ঘটনাটি ঘিরে সরকারি কৃষি উপকরণ বিতরণে স্বচ্ছতা ও বিধি অনুসরণের বিষয়টি নিয়ে এলাকায় প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ভবিষ্যতে সরকারি বরাদ্দের সার, ধানবীজসহ অন্যান্য কৃষি উপকরণ ব্যক্তিগত বাড়িতে না রেখে নির্ধারিত সরকারি স্থানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বিতরণ নিশ্চিত করা হোক।