ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রার্থী ও সমর্থকদের ওপর হামলা, ভোটকেন্দ্র দখল, পোলিং এজেন্টকে বাধা, একজনের ভোট অন্যজন দেওয়াসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মোট ২১টি অভিযোগ তুলে ধরেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন।
তিনি জানান, ঢাকা-১৮ আসনের খিলক্ষেত থানার নিকুঞ্জে জান ই আলম স্কুল কেন্দ্রে মহিলা ভোটারদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেন তিনি। একই আসনের আরেক কেন্দ্রে বিধি লঙ্ঘন করে ধানের শীষের পোলিং এজেন্টরা দলীয় কার্ড ঝুলিয়ে ভোটকক্ষে অবস্থান নেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
মনিরা শারমিন বলেন, এক কক্ষে একজন পোলিং এজেন্ট থাকার বিধান থাকলেও কুমিল্লার একটি কেন্দ্রে ধানের শীষের একাধিক পোলিং এজেন্ট একসঙ্গে অবস্থান করেছেন—এমন তথ্য গণমাধ্যমে এসেছে। ঢাকা-৮ আসনের মির্জা আব্বাস মহিলা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে এনসিপির প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর পোলিং এজেন্টকে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। একই আসনে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীকে বিএনপি প্রার্থীর লোকজন কিছু সময়ের জন্য অবরুদ্ধ করে রাখে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এনসিপির অভিযোগ অনুযায়ী, নোয়াখালীর হাতিয়ায় দলের প্রার্থী হান্নান মাসউদের স্ত্রী শ্যামলী সুলতানা জাদনী ও তাঁর ভাইকে রড দিয়ে মারধর করে আহত করা হয়েছে। হামলাকারীরা তাঁদের ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং ঘটনার ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তির ফোন ভেঙে ফেলে। হাতিয়ায় ধারাবাহিক সহিংসতা চললেও প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি বলে দাবি করেন মনিরা শারমিন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পুলিশ প্রশাসনের কাছ থেকে প্রত্যাশিত দায়িত্বশীলতা পাওয়া যাচ্ছে না। লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও সমাধান হচ্ছে না। বিভিন্ন স্থানে ভোট কারচুপি ও “ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং”-এর মাধ্যমে ফল প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সবশেষে এনসিপির এই নেত্রী সতর্ক করে বলেন, এভাবে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে এনসিপি এই নির্বাচন বয়কট বা প্রত্যাখ্যান করতে পারে