ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় পূর্বশত্রুতার জেরে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় এক যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে হামলার অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন)0 সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের বড়ভাগ পূর্বপাড়া এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত সুমন শেখ (২৪) ওই গ্রামের আলাউদ্দিন শেখের ছেলে এবং কাশিয়ানী এম এ খালেক ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বড়ভাগ গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে পূর্বশত্রুতা ও গ্রাম্য বিরোধ চলে আসছিল। এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য কুদ্দুস শেখ ও তার ছেলে ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি হুসাইন শেখ। অন্য পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন নিহতের বাবা আলাউদ্দিন শেখ ও শওকত শেখ। উভয় পক্ষই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।
শুক্রবার সন্ধ্যায় শিহাব নামে এক যুবককে নিয়ে মোটরসাইকেলে কাশিয়ানীর দিকে যাচ্ছিলেন সুমন। পথে গ্রামের উকিল শেখের বাড়ির সামনে পৌঁছালে একদল ব্যক্তি তার পথরোধ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে রাত ৮টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য কুদ্দুস শেখের ছেলে হুসাইন শেখের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকেই হুসাইন শেখসহ অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. আজম খান বলেন, হুসাইন শেখ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি। নিহত সুমন তার ফুপাতো ভাই ছিলেন। প্রায় চার বছর আগে সুমনের বাবাকে অপমান করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধের শুরু। এরপর কয়েক দফা সুমনের ওপর হামলার চেষ্টা হয়েছে। এক সপ্তাহ আগেও তাকে ঘিরে ফেলা হয়েছিল। এবার ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফকির তাইজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।