পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের নাসনাপাড়া কলোনির বাসিন্দা রেহানা বেগম। নিদারুণ অভাব-অনটনের মধ্যে ৩০ বছর আগে কলাপাড়া পৌর এলাকায় কলসিতে পানি বহনের কাজ শুরু করেন তিনি। শুরুতে কোমরে কলসি বহন করলেও বর্তমানে একটি ভ্যানগাড়িতে করে বিভিন্ন বাসাবাড়ি, খাবার হোটেল ও রেস্তোরাঁয় নিরাপদ পানি সরবরাহ করেন। টিউবওয়েল ও গভীর পুকুর থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয় তাঁকে।
বর্তমানে বয়সের ভারে কিছুটা নুয়ে পড়েছেন তিনি। শরীরে বিভিন্ন রোগ বাসা বাঁধায় আগের মতো পানি বহনের কাজও করতে পারেন না। তাঁর ব্যবহৃত পুরোনো ভ্যানগাড়িটিও এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, টিন দিয়ে তৈরি একটি জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করছেন রেহানা বেগম। দীর্ঘদিন ধরে পানি বহনের কাজ করায় এলাকায় তিনি ‘পানি বুয়া’ নামে পরিচিত। পরিশ্রমী এই অসহায় নারীকে সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
রেহানা বেগমের এক প্রতিবেশী বলেন, ‘রেহানা বুয়া দীর্ঘদিন পানি টানতে টানতে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁর ভ্যানগাড়িটিও প্রায় অচল। ঘরের অবস্থাও খুবই খারাপ। তাঁর সহায়তা প্রয়োজন।’
স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘রোগাক্রান্ত শরীর নিয়ে প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০ কলসি পানি সংগ্রহ করেন পানি বুয়া। নিজের চোখে দেখলে যে কারও কষ্ট লাগবে। আমার সামর্থ্য থাকলে তাঁকে সহায়তা করতাম। সমাজের বিত্তবানদের তাঁর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি।’
জীবনসংগ্রামী রেহানা বেগম বলেন, ‘আমার শরীরের অবস্থা ভালো না। ঘরটাও ভাঙা। সমাজের বিত্তবান মানুষ যদি আমার ঘর ও ভ্যানগাড়িটি মেরামত করে দিতেন, তাহলে কাজ করে বেঁচে থাকতে পারতাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিদিন পানি টানার কাজ করে গড়ে ৩০০ টাকা আয় হয়। এর মধ্যে কিছু টাকা ভ্যান মেরামতে খরচ করতে হয়। এরপর যে টাকা থাকে, তা দিয়ে কোনো রকমে জীবন চালাতে হচ্ছে।’
কলাপাড়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘রেহানাকে বিধবা ভাতার আওতায় আনার পাশাপাশি সরকারি সব ধরনের সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’