পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ হিসেবে “শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫” জারি করেছে। ২৪ নভেম্বর প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে নতুন বিধিমালা কার্যকর হয়। আগের বিধিমালার সীমাবদ্ধতা এবং স্পষ্ট নির্দেশনার ঘাটতি দূর করতেই এটি হালনাগাদ করা হয়েছে।
পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পূর্বের বিধিমালায় কেবল ম্যাজিস্ট্রেটদের ক্ষমতা থাকায় জনবল সংকটের কারণে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। নতুন বিধিমালায় ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট পদমর্যাদা ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলেই জরিমানা আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। বিধি ৬-এর উপ-বিধি (২), (৩) ও (৪)-এর আওতাভুক্ত কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে তাৎক্ষণিক জরিমানা করা যাবে।
নতুন বিধিমালায় শব্দদূষণের প্রধান উৎস হর্ন ব্যবহারের নিয়ন্ত্রণকে শক্তিশালী করা হয়েছে। আগের বিধিতে হর্নের আমদানি, উৎপাদন, মজুদ ও বিক্রির ওপর স্পষ্ট শাস্তির বিধান না থাকায় নিয়ন্ত্রণ কার্যকর হয়নি। নতুন বিধিমালায় এসব কর্মকাণ্ডে শাস্তির ব্যবস্থা সংযোজনের ফলে অনিয়ন্ত্রিত হর্ন ব্যবহারের লাগাম টানা সহজ হবে।
শব্দদূষণ রোধে নতুন বিধিমালায় আরও গুরুত্বপূর্ণ কিছু নিয়ম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। লিখিত অনুমতি ছাড়া জনপরিসরে লাউডস্পিকার, মাইক, অ্যাম্প্লিফায়ার ও সুরযন্ত্র ব্যবহার নিষিদ্ধ। প্রাকৃতিক বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলে বনভোজন বন্ধ থাকবে। সামাজিক অনুষ্ঠানে সর্বোচ্চ শব্দসীমা ৯০ ডেসিবেল নির্ধারণ করা হয়েছে এবং রাত ৯টার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করতে হবে। নীরব এলাকায় আতশবাজি, পটকা, হর্নসহ যেকোনো শব্দসৃষ্টিকারী পণ্য সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। এছাড়া রাতের বেলায় সব ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শিল্পকারখানা ও জেনারেটরের শব্দ নিয়ন্ত্রণেও নতুন বিধান সংযোজন করা হয়েছে। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিভিন্ন অপরাধের দণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে, যা শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে পূর্বের আইনি কাঠামোর ঘাটতি পূরণ করবে।
বিধিমালা হালনাগাদের আগে অংশীজনদের নিয়ে একাধিক সভা ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। সব মন্ত্রণালয়ের মতামত নেওয়া হয় এবং জনগণের মতামত গ্রহণের জন্য খসড়া অনলাইনে উন্মুক্ত করা হয়। বিভিন্ন দেশের ‘বেস্ট প্র্যাকটিস’ পর্যালোচনা করে ২০০৬ সালের বিধিমালার দুর্বলতা চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ২০২৫ সালের বিধিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হবে।