ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন গাজীপুর রিজিয়নের সালনা, মাওনা ও ভরাডোবা হাইওয়ে থানার পুলিশ সদস্যরা। মহাসড়কে যানজট নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধ এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান ও তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।
বিশেষ করে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের শ্রীপুর উপজেলার গড়গড়িয়া নতুন বাজার থেকে জৈনা বাজারের নাসিরের কাঁটা ইউটার্ন পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটার সড়কে একসময় দীর্ঘ যানজট ও থ্রি-হুইলার অটোরিকশার অবাধ চলাচল ছিল নিত্যদিনের সমস্যা।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সার্জেন্ট সৌরভ দাস ও মাওনা হাইওয়ে থানা পুলিশের তৎপরতায় ওই সড়ক অংশে থ্রি-হুইলার অটোরিকশার অবাধ চলাচল অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত পণ্য বহনকারী (ওভারলোড) যানবাহন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ঝুঁকি নিয়েও আইন প্রয়োগ করেছেন সার্জেন্ট সৌরভ দাস। তার দায়িত্বশীল ভূমিকার কারণে স্থানীয়দের মধ্যে তিনি প্রশংসা কুড়িয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইতোমধ্যে সার্জেন্ট সৌরভ দাসের সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশে বদলি হয়েছেন। তবে শ্রীপুরের স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, তাকে মাওনা হাইওয়ে থানায় রেখে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া হলে মহাসড়কের নিরাপত্তা ও সাধারণ পথযাত্রীদের সেবায় আরও ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে নিয়মিত চলাচলকারী এক গার্মেন্টস শ্রমিক ইব্রাহিম বলেন, আগে থ্রি-হুইলার অটোরিকশার কারণে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হতো। হাইওয়ে পুলিশের সার্জেন্ট সৌরভ স্যারকে দেখেছি, তিনি যেন এই মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সবসময় ব্যস্ত থাকতেন। আমি সর্বদাই তাকে আইন প্রয়োগে সক্রিয় দেখেছি।
শুধু আইন প্রয়োগ নয়, সার্জেন্ট সৌরভ মানবিকতারও পরিচয় দিয়েছেন। একজন প্রতিবন্ধী চালকের ক্ষেত্রে কয়েক দফায় মানবিক আচরণ করে তাকে আইন প্রয়োগের পরিবর্তে হাতে-কলমে নিয়ম-কানুন বুঝিয়ে দিয়েছেন।
অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কে বাস চালানো আর আমিন বলেন, আমি প্রায় ৯ বছর ধরে প্রভাতী বনশ্রী সহ অন্যান্য বাস চালাচ্ছি। অনেক পুলিশ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব পালন করতে দেখেছি, তবে সার্জেন্ট সৌরভকে ভিন্নভাবে দেখেছি। তিনি একদিকে মানবিকতার দৃষ্টান্ত, অন্যদিকে দায়িত্ব পালনে আইন প্রয়োগে সক্রিয়। আমাদের দাবি, সার্জেন্ট সৌরভ দাসকে মাওনা হাইওয়ে থানা অথবা সালনা হাইওয়ে থানায় দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া হোক। তিনি মহাসড়কে দায়িত্ব পালন করলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সাধারণ মানুষ আরও সহযোগিতা পাবেন বলে আমরা মনে করি।
সার্জেন্ট সৌরভ দাস বলেন, আমি ক্ষুদ্র একজন মানুষ। যতটুকু পেরেছি, সাধারণ মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করেছি। তবে যেদিন থেকে পুলিশে যুক্ত হয়েছি, এটিকে কখনো শুধু চাকরি হিসেবে দেখিনি। সবসময় সাধারণ মানুষের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি।
তিনি আরও বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে আমাকে যে থানা বা এলাকায় দায়িত্ব দেওয়া হোক না কেন, আমি সেখানে নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করব এবং সাধারণ মানুষের সেবক হিসেবেই নিজেকে উপস্থাপন করব। শ্রীপুরবাসীসহ যারা মহাসড়ক নিরাপদ রাখতে আমাকে সহযোগিতা করেছেন, তাদের সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ থাকবো।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, মহাসড়কে যানজট নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ যানবাহন প্রতিরোধ ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে হাইওয়ে পুলিশের এই তৎপরতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
সদ্য সংবাদ/এসকে