শুধু পাঠ্যবইনির্ভর শিক্ষা নয়, শিশুদের নিরাপত্তা, জীবনদক্ষতা ও বাস্তব জ্ঞান বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে প্রাথমিক শিক্ষার নতুন কারিকুলামে বছরের ১২ মাসে ১২টি জীবনঘনিষ্ঠ বিষয় বা থিমকে গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
বুধবার ঢাকার একটি হোটেলে হেইলিবেরি ভালুকা ও ক্যামব্রিজের যৌথ আয়োজনে ‘সেফগার্ডিং লিডারশিপ সামিটে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ের একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষা যেন কেবল বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, সেটিই সরকারের লক্ষ্য। শিশুরা কীভাবে নিরাপদ থাকবে, দায়িত্বশীল আচরণ করবে এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে নিজেদের সামলে নেবে- এসব বাস্তব দক্ষতাও শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই শেখানোর প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভিশন অনুযায়ী এমন একটি প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ চলছে, যেখানে শিশুরা নিরাপদ পরিবেশে বিদ্যালয়ে আসবে এবং শ্রেণিকক্ষে কার্যকরভাবে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তার পাশাপাশি জীবনদক্ষতা অর্জনের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষার কারিকুলাম সংস্কারের কাজ চলছে। প্রস্তাবিত কাঠামোয় বছরের প্রতিটি মাসের জন্য একটি করে জীবনঘনিষ্ঠ থিম নির্ধারণ করা হবে। ওই মাসের পাঠ্যক্রমের বিভিন্ন বিষয়ের সঙ্গে নির্ধারিত থিমের সামঞ্জস্য রেখে উদাহরণ, প্রশ্ন, সংখ্যা ও আলোচনা যুক্ত করা হবে।
এর ফলে শ্রেণিকক্ষের পড়াশোনার সঙ্গে বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার যোগসূত্র তৈরি হবে বলে মনে করেন তিনি। উদাহরণ হিসেবে ববি হাজ্জাজ বলেন, কোনো মাসে অগ্নিনিরাপত্তাকে থিম হিসেবে নেওয়া হলে গণিত, ভাষা ও অন্যান্য বিষয়ের পাঠেও অগ্নিনিরাপত্তা সম্পর্কিত উদাহরণ বা বিষয়বস্তু রাখা যেতে পারে।
একইভাবে সড়কে চলাচলের নিরাপত্তা, পানিতে নিরাপদ থাকা, স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা এবং দুর্যোগ মোকাবিলার মতো শিশুদের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোও পর্যায়ক্রমে পাঠদানের সঙ্গে যুক্ত করা হবে বলে জানান তিনি।
দেশের সব ধরনের প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ন্যূনতম নিরাপত্তা ও শিক্ষার মান নিশ্চিত করার জন্য সরকার নীতিমালা তৈরির কাজ করছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তার ভাষ্য, এর মাধ্যমে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি ন্যূনতম মানদণ্ড নির্ধারণ করা হবে। তবে যেসব প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে সেই মানের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে, তারা নিজেদের কার্যক্রম আরও উন্নত করার সুযোগ পাবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শুধু নিয়ন্ত্রণের জায়গা থেকে না দেখে অংশীদার হিসেবে নিয়ে কাজ করার কথাও তুলে ধরেন ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা ও সফল উদ্যোগ থেকে সরকার শিক্ষা নিতে চায়। পাশাপাশি সরকারি নীতিমালা ও সহযোগিতার মাধ্যমে দেশব্যাপী প্রাথমিক শিক্ষায় একটি অভিন্ন মানদণ্ড প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য রয়েছে।
সামিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজসহ শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার প্রতিনিধিরা, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
সদ্য সংবাদ/এসকে