টানা বৃষ্টিতে কক্সবাজারের ১০ উপজেলা প্লাবিত, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১

A
Admin
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৩৭:৩৩
টানা ভারী বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের পানিতে কক্সবাজারের ১০ উপজেলার অন্তত ২৫টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি ও সড়কে পানি ওঠায় হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। মঙ্গলবার কক্সবাজার সদর উপজেলার দরিয়ানগর এলাকায় পাহাড়ধসে নাছিমা আক্তার (৩৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত তিন দিনে জেলায় পাহাড়ধসে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ১১ জনে দাঁড়িয়েছে।

বৈরী আবহাওয়ার কারণে টানা পাঁচ দিন ধরে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে সেন্টমার্টিনে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে দ্বীপে যেতে না পেরে টেকনাফে আটকা পড়েছেন শতাধিক যাত্রী।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, টেকনাফ পৌরসভা এবং সদর, সাবরাং, হ্নীলা ও হোয়াইক্যং ইউনিয়নের অন্তত ৮০০ পরিবারের ঘরবাড়িতে পানি ঢুকেছে। পাশাপাশি লেদা, জাদিমুড়া ও আলীখালী রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের প্রায় ৭০০টি আশ্রয়ঘরও প্লাবিত হয়েছে। সব মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরের সংখ্যা প্রায় দুই হাজার।

মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। অনেক বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ে। তবে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উপজেলায় নতুন করে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

টেকনাফ সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা আমিন হোসেন বলেন, বাড়িতে পানি ঢুকে সবকিছু তলিয়ে গেছে। সকাল থেকে শুধু মুড়ি ও চানাচুর খেয়ে আছেন। খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নামছে না বলে আশপাশের অনেক পরিবার একই দুর্ভোগে রয়েছে।

হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আলী বলেন, ভারী বৃষ্টিতে ইউনিয়নের অন্তত ৪০০টি ঘরবাড়িতে পানি উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সড়ক। শতাধিক কাঁচা ঘর আংশিক ও সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে।

সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা মো. জয়নাল আবেদিন জানান, কয়েক দিন ধরে নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় টেকনাফ থেকে প্রয়োজনীয় পণ্য আনা যাচ্ছে না। ইতোমধ্যে অনেক নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে এবং সংকটও দেখা দিয়েছে।

দ্বীপের আরেক বাসিন্দা নুরুল আলম বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে কয়েক দিন ধরে টেকনাফে আটকা রয়েছেন। এতে পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, টানা পাঁচ দিন ধরে দ্বীপের সঙ্গে টেকনাফের নৌযোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা না থাকায় খাদ্যসংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, ভারী বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং সেন্টমার্টিনের পরিস্থিতিও সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

এদিকে রামু উপজেলার গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া ও কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী, ঈদগাঁও ও কক্সবাজার সদর উপজেলার নিচু এলাকাগুলোও পানিতে তলিয়ে গেছে। কক্সবাজার পৌরসভার হোটেল-মোটেল জোন, কলাতলী, সুগন্ধা, বাজারঘাটা, কালুর দোকান, তারাবনিয়াছড়া, বাস টার্মিনাল ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ক্যাম্পসংলগ্ন সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের দুর্ভোগ বেড়েছে।

পেকুয়ার টৈটং ইউনিয়নের হাজীবাজার মসজিদসংলগ্ন এলাকায় একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়ায় পুরো এলাকা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এতে জনজীবন ও যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজার সদর উপজেলার দরিয়ানগর এলাকায় পাহাড়ধসে নাছিমা আক্তারের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তার স্বামী জসিম উদ্দিন ও পরিবারের এক শিশু সদস্য আহত হন।

নিহতের ভাই মনির হোসেন জানান, পাহাড়ের পাদদেশে থাকা তাদের বসতঘরের ওপর হঠাৎ পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ে। আহতদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক নাছিমাকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত জসিম উদ্দিনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে রোববার ও সোমবার উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে পাহাড়ধসে নারী-শিশুসহ ১০ জনের মৃত্যু হয়।

রোহিঙ্গা ত্রাণ কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ৪ থেকে ৭ জুলাইয়ের মধ্যে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ১০ জন নিহত এবং ১০ জন আহত হয়েছেন। এতে ১৫ হাজার ৮১৩ জন ক্ষতিগ্রস্ত ও ৩ হাজার ১৮২ জন বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১ হাজার ৬২৪টি আশ্রয়। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় নতুন করে বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকির সতর্কতাও দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে কক্সবাজারসহ উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। আগামী তিন দিনও এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।

জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে নিয়ে জরুরি সভা করা হয়েছে। পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে প্রশাসন কাজ করছে। নির্দেশনা অমান্য করে কেউ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. রোহিঙ্গাদের ন্যায়বিচার ও মর্যাদার গল্পের সূচনা হোক এখনই: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সদ্য. ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: রোববার থেকে শুরু পোস্টাল ভোটের নিবন্ধন সদ্য. প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক সদ্য. রাজধানী থেকে গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি সদ্য. একসঙ্গে পুলিশের ৭ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি সদ্য. জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশন ঘিরে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী সদ্য. চাপের কাছে মাথা নত করবে না ইরান: জাতিসংঘে পেজেশকিয়ান সদ্য. চবি ভিসির প্রথম নিয়োগে ১২ জনের ৮ জনই নিজ গ্রামের, বাকি ৪ জন উপজেলার সদ্য. বারিধারায় গাড়িচাপা: মামলায় নাম নেই গতকাল আটক সেই কিশোরের সদ্য. সরকারি সব কলেজের উদ্দেশে মাউশির জরুরি নির্দেশনা সদ্য. রোহিঙ্গাদের ন্যায়বিচার ও মর্যাদার গল্পের সূচনা হোক এখনই: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সদ্য. ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: রোববার থেকে শুরু পোস্টাল ভোটের নিবন্ধন সদ্য. প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক সদ্য. রাজধানী থেকে গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি সদ্য. একসঙ্গে পুলিশের ৭ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি সদ্য. জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশন ঘিরে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী সদ্য. চাপের কাছে মাথা নত করবে না ইরান: জাতিসংঘে পেজেশকিয়ান সদ্য. চবি ভিসির প্রথম নিয়োগে ১২ জনের ৮ জনই নিজ গ্রামের, বাকি ৪ জন উপজেলার সদ্য. বারিধারায় গাড়িচাপা: মামলায় নাম নেই গতকাল আটক সেই কিশোরের সদ্য. সরকারি সব কলেজের উদ্দেশে মাউশির জরুরি নির্দেশনা