আহতরা হলেন: দেশ টিভির জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক তাইফুর রহমান তুহিন, এসএ টিভির সাভার প্রতিনিধি সাদ্দাম হোসেন, দেশ টিভির ক্যামেরাপারসন মনিরুল হক কাইয়ুম এবং গাড়িচালক জয়নাল আবেদীন। পরে তাঁদের উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
জানা গেছে, মাদক কারবারিদের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন তৈরির জন্য শুক্রবার বিকেলে দেশ টিভির একটি টিম সাভারে যায়। স্থানীয় সাংবাদিক সাদ্দাম হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে তারা রাজাসন এলাকার একটি রিকশা গ্যারেজে তথ্য সংগ্রহে যান। এলাকাবাসীর দাবি, গ্যারেজটি দীর্ঘদিন ধরে চিহ্নিত মাদক কারবারি শামীম হোসেনের আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, তথ্য সংগ্রহ শেষে গাড়িতে ওঠার পরপরই শামীম হোসেনের সহযোগীরা তাদের পথরোধ করে হামলা চালায়। এ সময় লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়। হামলায় সাংবাদিক তাইফুর রহমান তুহিনের মাথা ফেটে যায় এবং তাঁর পিঠ ও কোমরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত লাগে। এছাড়া সাদ্দাম হোসেন ডান চোখে গুরুতর আঘাত পান।
হামলাকারীরা সংবাদকর্মীদের ব্যবহৃত গাড়ি ও ক্যামেরা ভাঙচুরের পাশাপাশি মোবাইল ফোন, এটিএম কার্ড ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। পরে আহতদের একটি রিকশা গ্যারেজে আটকে রাখা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
সাভার প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হুদা জানান, হামলার খবর পেয়ে তিনি পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যান এবং আহতদের উদ্ধার করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শামীম হোসেন সাভারের চিহ্নিত মাদক কারবারি। রাজাসন এলাকায় একটি রিকশা গ্যারেজকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে তিনি মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। এর আগেও একাধিকবার মাদকসহ গ্রেপ্তার হয়েছেন তিনি। সম্প্রতি র্যাবের অভিযানে তাঁর গ্যারেজ থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও রয়েছে।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী বলেন, 'হামলার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে আহতদের উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে সন্দেহভাজন চারজনকে আটক করা হয়েছে। মূল অভিযুক্ত শামীম হোসেনসহ অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।'