যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসানে কূটনৈতিক পথে সমাধানের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে ইরান। দেশটির এমন অবস্থানের পর আন্তর্জাতিক বাজারে কিছুটা কমেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। এর আগে বুধবার একদিনেই তেলের দাম প্রায় ৪ শতাংশ বেড়েছিল।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচার দর ৯৪ সেন্ট বা প্রায় ০ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০২ দশমিক ১৩ ডলারে নেমেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের দাম কমেছে ৫৯ সেন্ট বা প্রায় ০ দশমিক ৭ শতাংশ। এতে প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআইয়ের দাম দাঁড়িয়েছে ৯১ দশমিক ৫৬ ডলারে।
বাজার বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় সরবরাহ নিয়ে আশঙ্কা কিছুটা কমেছে। ফলে সাম্প্রতিক ঊর্ধ্বগতির পর তেলের দামে সংশোধন দেখা দিয়েছে।
ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের অবসানে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তেহরান প্রস্তুত। তবে সংঘাত কীভাবে শেষ হবে এবং সমঝোতার শর্ত কী হবে, তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান অনিশ্চয়তা তেলের বাজারে বড় প্রভাব ফেলছে। এ পথে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলে বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা কমে, আর সংঘাত বাড়ার আশঙ্কায় সাধারণত তেলের দাম বাড়তে দেখা যায়।
এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও সরবরাহ বিঘ্নের আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়। এখন কূটনৈতিক তৎপরতার নতুন ইঙ্গিত বাজারে কিছুটা স্বস্তি তৈরি করলেও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের ভবিষ্যৎ এবং হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির ওপরই তেলের দামের পরবর্তী গতিপথ অনেকটা নির্ভর করছে।
সদ্য সংবাদ/এসকে